ছয় বছর পর চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক: জয়ের মঞ্চটা আগের দিনেই তৈরি করে রেখেছিল রাজশাহী। গতকাল জুনায়েদ সিদ্দিকীর সেঞ্চুরি ও জহুরুল ইসলাম অমির হাফসেঞ্চুরিতে জাতীয় লিগের শেষ রাউন্ডের শেষদিনে বরিশালকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আনুষ্ঠানিকতা সারে পদ্মাপাড়ের দলটি। একই সঙ্গে ৬ বছর পর এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে মাতে খালেদ মাসুদ পাইলটের উত্তরসূরিরা। এটি তাদের ষষ্ঠ শিরোপা। দেশের সবচেয়ে পুরোনো প্রথম শ্রেণির এ প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ে তারা পাশে বসল খুলনার।
বরিশালের বিপক্ষে শেষদিনে রাজশাহীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১০২ রান, উইকেট ছিল ৮টি। গতকাল ঘরের মাঠে আর ২ উইকেট হারিয়ে লাঞ্চের আগেই জয় তুলে নেয় পদ্মাপাড়ের দলটি।
গতপরশু দ্বিতীয় ইনিংসে বরিশালকে ৩৪৬ রানে অলআউট করেছিল রাজশাহী। শেষ ইনিংসে ২৮৪ রানের লক্ষ্যে নেমে তৃতীয় দিনে স্বাগতিকরা করেছিল ২ উইকেটে ১৮২ রানে। সেখান থেকে গতকাল দারুণ খেলে জুনায়েদ সিদ্দিকীর সেঞ্চুরি (১২০*) ও জহুরুল ইসলামের (৬৪) সময় উপযোগী ব্যাটিংয়ে সহজেই জিতে যায় রাজশাহী। এজন্য অবশ্য দলটির হারাতে আরও দুটি উইকেট।
আগের দিনের ১৮২ রান নিয়ে গতকাল ব্যাটিংয়ে নামে জুনায়েদ সিদ্দিকী (৬৫) ও জহুরুল ইসলাম (২৫) শুরু থেকেই রান তোলার দিকে নজর দেন। তাতে ওই দুই ব্যাটসম্যান দারুণ সফল ছিলেন। সেই পথ ধরেই জহুরুল ৯৮ বলে ৬ চারে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। অন্যদিকে ১৬৪ বলে ১৩ চারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জুনায়েদ। এরপর তার ব্যাট হয় আরও চওড়া। এর মাঝে ৬৪ রানে ফিরেন জহুরুল। দ্রুতই তার দেখান পথে হাঁটেন ফরহাদ হোসেনও। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ঠিকই রাজশাহীকে জিতিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতান জুনায়েদ। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যানের ১২০ রানের ইনিংসটিতে ছিল ১৭ চারে সাজানো।
ব্যাট হাতে দুই ইনিংসে দাপট দেখানোয় ম্যাচসেরা হয়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বরিশাল ১ম ইনিংস: ৯৭
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১৬০
বরিশাল ২য় ইনিংস: ১০৫.৩ ওভারে ৩৪৬ (আগের দিন ২৪৬/৬) (শামসুল ৫৬, তানভীর ৩২, সোহাগ ০, কামরুল রাব্বি ১৫, মনির ৬*; ফরহাদ রেজা ৪/৫৯, শফিকুল ০/৪৫, মোহর ৩/৯৪, মুক্তার ১/৪৫, সানজামুল ১/৭০, সাব্বির হোসেন ০/১৩, সাব্বির রহমান ১/৫)
রাজশাহী ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৮৪) ৭৬ ওভারে ২৮৪/৪ (মিজানুর ৩০, সাব্বির হোসেন ৪৯, জুনায়েদ ১২০*, জহুরুল ৬৪, ফরহাদ ৪, সাব্বির ৪*; কামরুল রাব্বি ০/৪৩, মনির ০/৬৩, সোহাগ ১/৬৯, নুরুজ্জামান ০/১২, তানভির ২/৬১, মোসাদ্দেক ১/১৭, আল আমিন ০/৭)।
ম্যাচসেরা : জুনায়েদ সিদ্দিকী।