ছয় মাসে দর বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

  ‘জেড’ ক্যাটাগরির সমতা লেদার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে ‘জেড’ ক্যাটাগরির তালিকাভুক্ত লোকসানি প্রতিষ্ঠান সমতা লেদারের শেয়ারদর আবার বাড়ছে। গত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এদিকে সমতার শেয়ারদর বাড়ার পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। ফলে যারা হুজুগে উচ্চ দরে এ শেয়ার কিনছেন, পরিণামে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সমতা লেদারের শেয়ার সর্বোচ্চ ৭০ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এদিন কোম্পানির শেয়ার ৬৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭০ টাকায় ওঠানামা করেছে। এর আগে গত জুন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার ২৬ টাকায় ও জুলাইয়ের শুরুতে ৩০ টাকায় বেচাকেনা হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে কোম্পানির শেয়ার ৬৬ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এর পর থেকে কোম্পানির শেয়ারদর বেশ কিছুদিন কমেছে, যা অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ৪১ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ গত ছয় মাসে কোম্পানির শেয়ারদর দ্বিগুণের বেশি বা ১৩৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার সর্বনি¤œ ২৩ টাকা ৮০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২০৫ শতাংশ।

অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণে গত মাসে কোম্পানিটিকে নোটিশ দিয়েছিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। জবাবে দর বাড়ার পেছনে কোনো ধরনের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের উত্থান ও পতন দুই সময়েই ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার নিয়ে সুযোগ নেয় অসৎ চক্র। আর যখন এসব কোম্পানির দর বাড়ে তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লোভে পড়ে সেগুলোতে বিনিয়োগ করে। পরে সুযোগ বুঝে চক্রটির হাতে থাকা শেয়ার ছেড়ে মুনাফা করে ওই কোম্পানি থেকে বেরিয়ে যায়। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিছু বিনিয়োগকারী। তাই লোভে পড়ে লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দেন তারা।

শেয়ারদর বাড়ার বিষয়ে সমতা লেদারের নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘কী কারণে শেয়ারদর বাড়ছে, তা জানা নেই। আমরা চেষ্টা করছি লোকসান কমিয়ে আনতে। তবে তা অচিরেই সম্ভব হবে না।’

কোম্পানির সর্বশেষ প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোম্পানিটি লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর তিন মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে এক পয়সা। আগের বছর একই সময় লোকসানের পরিমাণ ছিল ৯ পয়সা।

লভ্যাংশের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত পাঁচ বছরে কোম্পানিটির লভ্যাংশ দেওয়ার কোনো ইতিহাস নেই।

পুঁজিবাজারে ১৯৯৮ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা এক কোটি তিন লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৫০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৪ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার আছে।