প্রচ্ছদ শেষ পাতা

জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে বাইসাইকেল

সংকুচিত হচ্ছে বাজার

হামিদুর রহমান: আজ থেকে প্রায় দেড় যুগ আগেও মফস্বলে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল বাইসাইকেল। আর শহরেও নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যেও জনপ্রিয় ছিল বাইসাইকেল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিত্র বদলে গেছে, নিত্যনতুন প্রযুক্তিতে বিকল্প যানবাহন দখল করছে বাইসাইকেলের জায়গা। আর সংকুচিত হচ্ছে বাইসাইকেলের মার্কেট।
দেশে বাইসাইকেলের বাজার নিয়ে গবেষণা না থাকলেও ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দেশে প্রায় এক যুগ আগেও রমরমা বাজার ছিল বাইসাইকেলের। ওই সময়ে প্রতি মাসে প্রচুর বাইসাইকেল বিক্রি হতো। তবে এখন তা অনেক কমে গেছে। এখন এক বছরে যত বাইসাইকেল বিক্রি হয়, আগে তা এক মাসেই বিক্রি হতো।
তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে বাইসাইকেল আমদানির বড় অংশই আসে চীন ও ভারত থেকে। আর বাইসাইকেলের বাজারের প্রায় অর্ধেকই বিদেশি সাইকেলের দখলে। দেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাইসাইকেল থাকলেও চাহিদা তুলনামূলক কম।
বাইসাইকেল ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, ‘২০১৭ সালে সারা দেশে বাইসাইকেল বিক্রি হয় প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে দামি সাইকেল ছিল প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ, যেগুলোর মূল্য সাধারণত ৪০ হাজার থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা। আর ২০১৮ সালে বাইসাইকেল বিক্রি হয় প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার। অর্থাৎ ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে বাইসাইকেল বিক্রি কমে গেছে প্রায় ২৫ হাজার, যেটি প্রতিবছরই কমছে। এ বছর বিক্রি আরও কমে যাবে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি বছরের মে পর্যন্ত সারা দেশে বাইসাইকেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ২৫ হাজারের মতো।
সাইকেল লাইফের হেড অব মার্কেটিং সজীব আহম্মেদ শেয়ার বিজকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশে বাইসাইকেলের বাজার আগের মতো নেই। দিন দিন বাজার ছোট হচ্ছে। আজ থেকে পাঁচ-সাত বছর আগেও সাইকেলের বাজার রমরমা ছিল। দিন যত যাচ্ছে সাইকেল বিক্রি তত কমছে। তবে দেশের তুলনায় সাইকেলের আন্তর্জাতিক বাজার বড় হচ্ছে।’
ব্যবাসায়ীরা জানান, ‘সময় বদলে যাওয়ায় বাইসাইকেলে মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। একসময় মফস্বলে বাইসাইকেলের প্রচলন ভাল ছিল। স্কুল, কলেজ ও অফিস থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই বাইসাইকেলের ব্যবহার ছিল। এখন মফস্বলও বদলে গেছে। প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎচালিত বিভিন্ন যানবাহন চালু হওয়ায় মানুষ এখন বাইসাইকেল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এখন শিক্ষার্থীরাও আগের মতো বাইসাইকেলে করে স্কুল-কলেজে যায় না। বরং ইজিবাইক, মোটরচালিত ভ্যান প্রভৃতি এখন গ্রামাঞ্চলে চলাচলের মূল বাহন। এছাড়া মোটরবাইকের বাজারও অনেক বেড়ে গেছে। এসব কারণেই মূলত বাইসাইকেলের জনপ্রিয়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তারা আরও জানান, ‘আগে মানুষ আগ্রহ নিয়েই সাইকেল চালানো শিখত, এখন সাইকেল চালানো শেখানোর জন্য কোচিং সুবিধা দিলেও তুলনামূলকভাবে সাড়া নেই।
ব্যবসায়ীদের প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে বাইসাইকেলের মোট মার্কেটের প্রায় ৪০ শতাংশই বাচ্চাদের (কিডস) দখলে। এছাড়া ২৫ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের দখলে রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ, যারা কাজের প্রয়োজনে বাইসাইকেল ব্যবহার করে। বাকি ২০ শতাংশ সাধারণত শৌখিন চালকদের জন্য। মূলত বিনোদন বা সাইক্লিংয়ের জন্যই এই ২০ শতাংশ বাইসাইকেল কেনা হয়। অর্থাৎ উচ্চমূল্যের সাইকেলগুলো সাধারণত এই জনগোষ্ঠীর জন্য।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাইসাইকেলের ব্যবহার কমলেও বর্তমানে পর্যটন এলাকাগুলোতে কিছুটা জনপ্রিয় হচ্ছে, যেমন সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার, বান্দরবান ও সিলেটে বাইসাইকেল জনপ্রিয় হচ্ছে। এছাড়া বাইসাইকেলের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে সাইক্লিংয়ের শারীরিক সুস্থতা ও উপকারিতা নিয়ে দেশব্যাপী স্কুল-কলেজে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করলেও বাজার ধরে রাখতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।

 

সর্বশেষ..