মার্কেটওয়াচ

জবাবদিহি থাকলে সম্ভাবনাময় হতে পারে বিমা খাত

আগে একটি বিমা কোম্পানি ৩০০ থেকে ৪০০ ব্যাংক হিসাব খুলতে পারত। কারণ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হতো। কিন্তু এখন বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। অর্থাৎ তিনটির বেশি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে না। এতে বিমা কোম্পানিগুলো একটি জবাবদিহির মধ্যে চলে আসবে। ফলে বিমা খাত ইতিবাচক দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়।

হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিশ্লেষক মোহাম্মদ সাবির আহমেদ, এফসিএ এবং বিএমএফএলের সিইও, রিয়াদ মতিন।

মোহাম্মদ সাবির আহমেদ বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম এবং খেলাপি ঋণ নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিমা খাতে অনেক সমস্যা রয়েছে। আর এ খাত থেকে অর্থ লুটপাট করার সুযোগ বেশি। বিশেষ করে এ খাতের কমিশনের জায়গাটি স্বচ্ছ নয়। এ খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (ইডরা) বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। আগে একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ৩০০ থেকে ৪০০ ব্যাংক হিসাব খুলতে পারত। কারণ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হতো। কিন্তু এখন বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। অর্থাৎ তিনটির বেশি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে না। এতে বিমা কোম্পানিগুলো একটি জবাবদিহির মধ্যে চলে আসবে। ফলে বিমা খাত একটি ইতিবাচক দিকে যাবে বলে মনে করি। সম্প্রতি বাজেটে বাজারসংক্রান্ত বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো বাজারের অন্তর্ভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিপক্ষে চলে গেছে। কথা হচ্ছে, কোম্পানিগুলোকে শাস্তি দিয়ে বাজার ভালো করা যাবে না। বাজেটে কী করা উচিত। দেশে জাতীয় আয়ের বড় একটি অংশ ট্যাক্স থেকে আসে। কিন্তু অন্য দেশের চেয়ে দেশের ট্যাক্স ধার্যের পরিমাণ বেশি। এবার বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, স্টক লভ্যাংশের পাশাপাশি নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে। যারা শুধু স্টক লভ্যাংশ দেবে তাদের ট্যাক্স দিতে হবে। এতে কোম্পানিরগুলোর শেয়ারদর কমে যাবে এবং বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আসলে এখানে ট্যাক্সের পরিমাণ না বাড়িয়ে দুই শতাংশ কমানো যেত। আইপিও হচ্ছে বাজারের প্রাণ এবং বাজার গতিশীল রাখার জন্য আইপিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি ভালোমানের শেয়ার না থাকে তাহলে বিনিয়োগকারীরা কী করে আস্থা পাবে। সত্যিকার অর্থে ভালো মানের আইপিও আসেনি। ভালো মানের কোম্পানি কেন আসবে? এ ধরনের কোম্পানি আনতে হলে ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ বাজারে একটি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত করতে নানা ধরনের হয়রানির স্বীকার হতে হয়।

রিয়াদ মতিন বলেন, গত দুই বছর আগেও ব্যাংক খাত  ইতিবাচক অবস্থানে ছিল কিন্তু হঠাৎ করে নেতিবাচক অবস্থানে চলে এসেছে। আবার চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাজার ধারাবাহিকভাবে পতনের দিকে যাচ্ছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। এর মধ্যে বাজার সম্পর্কিত নেতিবাচক সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে আর্থিক খাতে একটি কোম্পানি অবসায়ন করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কয়েকটি আর্থিক কোম্পানির খারাপ অবস্থার কথা শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আর্থিক খাতে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

সর্বশেষ..



/* ]]> */