জমে উঠেছে কাস্টমস অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণা জমে উঠেছে। কোনো কোনো প্রার্থী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আবার কেউ মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠিয়ে ভোট চাচ্ছেন। এককথায় নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
আগামী ২০ অক্টোবর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় (আইসিসিবি-৩) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কাস্টম হাউজ আইসিডি’র কমিশনার ফারজানা আফরোজ। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান।
নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৩টি পদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট, প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং ১১টি সাধারণ সদস্য পদ ছাড়া বাকি চার পদে নির্বাচন হবে। ভোট গ্রহণ ২০ অক্টোবর ও একই দিন ভোট গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ফলাফল নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে ২১ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনারের কাছে উত্থাপন করা যাবে। আপত্তি না থাকলে ২২ অক্টোবর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
সূত্র আরও জানায়, ১৯ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হবে। এছাড়া ১৪ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। গতকাল ১১ অক্টোবর বৈধ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বর্তমান কমিটির প্রেসিডেন্ট ও এনবিআর সদস্য খন্দকার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্টের তিনটি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন। এর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, চট্টগ্রামের কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া; ঢাকা কাস্টম হাউজের কমিশনার ড. আবদুল মান্নান শিকদার; কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (পূর্ব) কমিশনার মো. জামাল হোসেন; কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (দক্ষিণ) কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত কমিশনার, মূসক নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোবারা খানম।
মহাসচিবের একটি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। তারা হলেন বর্তমান মহাসচিব, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত কমিশনার ও ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের উপপরিচালক সৈয়দ মুসফিকুর রহমান। যুগ্ম মহাসচিবের একটি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন। তারা হলেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, কাস্টম হাউজ আইসিডি’র অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, এনবিআরের প্রথম সচিব একেএম নুরুল হুদা আজাদ ও রইচ উদ্দিন খান।
ট্রেজারের একটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুজন। তারা হলেন অতিরিক্ত কমিশনার ড. নাহিদা ফরিদী ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. তাসনিমুর রহমান। প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের একটি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বর্তমান সম্পাদক কাজী মুহম্মদ জিয়াউদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার। এছাড়া দফতর সম্পাদকের একটি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সহকারী কমিশনার ইফতেখারুল আলম ভূঁইয়া নির্বাচিত হয়েছেন।
১১টি সদস্যপদে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তারা হলেন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকার (উত্তর) কমিশনার জাকিয়া সুলতানা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, রাজশাহীর কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, অতিরিক্ত কমিশনার একেএম মাহবুবুর রহমান ও মো. ফজলুল হক, এনবিআরের প্রথম সচিব হাসান মো. তারেক রিকাবদার, যুগ্ম কমিশনার সাধন কুমার কুণ্ডু, উপ-কমিশনার মো. ফখরুল আমিন চৌধুরী, সাইদুল আলম, মোহাম্মদ মারুফুর রহমান, সহকারী কমিশনার সোলায়মান হোসেন ও মুনাওয়ার মুরসালীন।
সূত্র আরও জানায়, ১০ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাছাই হয়। ৮ থেকে ৯ অক্টোবর মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা শেষ হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় (অস্থায়ী, কাস্টম হাউজ আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে। ২০ সেপ্টেম্বর আপত্তি পর্যালোচনা ও ভোটার তালিকা সংশোধন শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দুটি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী প্রথম ভোটার তালিকায় রয়েছেন ১৭ ভোটার। এর মধ্যে রয়েছেন এক সিনিয়র সচিব, চার অতিরিক্ত সচিব, পাঁচ যুগ্ম সচিব ও সাত উপসচিব। দ্বিতীয় তালিকায় এনবিআরের আট সদস্য, ৩৫ কমিশনার, ৩৮ অতিরিক্ত কমিশনার, ৪৩ যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনার ও সহকারী কমিশনারসহ মোট ৪০৪ ভোটার রয়েছেন।