জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে থাকুক দৃষ্টি

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক’দিন ধরে নিয়মিতভাবেই হচ্ছে বৃষ্টিপাত। আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে সহযোগী এক দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বর্ষা এবার চলে এসেছে আগেই। ২২ মে পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ২৩ শতাংশ বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে এ মৌসুমে। এ কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে দেশের বিভিন্ন নগর ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ ব্যবসাপ্রধান এলাকায়। এতে জনজীবনে ভোগান্তি শুধু বেড়ে ওঠেনি, ব্যবসা-বাণিজ্যও হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত। জলাবদ্ধতার কারণে তীব্র রূপ ধারণ করছে যানজট। ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটা পুরোদমেই শুরু হয়েছে বলা যায়। এ অবস্থায় নগরগুলোয় জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃষ্টি দেওয়া না হলে কাক্সিক্ষত বিপণি বিতান থেকে পছন্দের পণ্য কেনা মানুষের জন্য কঠিন হবে। দোকানিদের ব্যবসাও হবে ক্ষতিগ্রস্ত। ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটাসহ বিভিন্ন গন্তব্যে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতেও জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ঘিরে নগরীর বিভিন্ন রাস্তা ও ড্রেন খোঁড়াখুঁড়ির ওপর প্রতিবেদনও লক্ষ করা যাচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে। মাটি খুঁড়ে সংশ্লিষ্ট স্থানে ফেলার কারণেও চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ। সড়ক সংকীর্ণ হয়ে আসে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বৃষ্টির পানি নামতে পারে না স্বাভাবিকভাবে। এটাও জলাবদ্ধতা ও যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ। বৃষ্টিতে কাদা তৈরির কারণেও ভোগান্তিতে যুক্ত হয় বাড়তি মাত্রা। বস্তুত বর্ষার আগেই এ ধরনের প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্টরা সেটি আমলে নেন বলে মনে হয় না। অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে প্রকল্প বাস্তবায়নের তোড়জোর বেড়ে ওঠে। এ কারণেও চলে খোঁড়াখুড়ি। সমন্বয়ের অভাবেও এমন কার্যক্রম চলতে থাকে অব্যাহতভাবে। তাতে আবার বেড়ে ওঠে প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যয়। এ অবস্থায় অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের পরামর্শও দিচ্ছেন অনেকে। এ ধারার ইতিবাচক পরিবর্তনে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কাম্য এখন।
চন্দ্রবর্ষের নিয়ম অনুযায়ী আরও কয়েক বছর ঈদ হাজির হবে এ মৌসুমে। আমরা জানি, উৎসবটি ঘিরে দেশে বেড়ে ওঠে অর্থনৈতিক কর্মকাø। এমন সময়ে সড়কের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকলে পণ্যসামগ্রী উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রমে যুক্তদের বাড়ে ভোগান্তি। পরিবহন ব্যয় ও এ-সংশ্লিষ্ট মজুরি বেড়ে ওঠার প্রভাব পড়ে দামে। এখন পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এসব উপাদান দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে আগামীর ঈদবাজারেও। শুধু ক্রেতাস্বার্থ বিবেচনায় রেখে নয়; বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতেও জলাবদ্ধতা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে আমরা মনে করি। এ লক্ষ্যে নগর ও শহরের ড্রেনগুলো ঠিকঠাক রাখার পাশাপাশি দৃষ্টি দিতে হবে এর সঙ্গে যুক্ত খালগুলোয়। রাজধানীর মতোই প্রকৃতিদত্ত খাল দখল ও ভরাটের উদাহরণ রয়েছে অন্যান্য নগর ও শহরে। এসব উদ্ধার ও পুনঃখননের পদক্ষেপ নিতে হবে সঙ্গত কারণেই। এক্ষেত্রে খুব দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো অবশ্য কঠিন। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি এবারের পরিস্থিতি যাতে অন্তত সহনীয় রাখা যায়, সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাইব আমরা।