সম্পাদকীয়

জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প কাজে দায়িত্ববোধ অপরিহার্য

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, আছদগঞ্জ, চাক্তাই, চকবাজার, বহদ্দারহাটের মতো বড় বাজারের বিকিকিনিতে আটকে পড়া ঘড়ির কাঁটা, কিংবা ব্যাংকের ব্যস্ত প্রহরে কেবলই আলস্যের খড়া। সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেনে বিকল দশা। ভোগান্তিতে ডুবে আছে সাধারণ মানুষের জীবন চাকা। এর পেছনে শুধুই কি বৃষ্টি-বর্ষণ? আসলে চারদিক থেকে জেঁকে বসা এ বিশাল বন্দরঘেঁষা নগরকাঠামোর চাহিদা মোতাবেক পয়োপ্রণালির পর্যাপ্ততা তো নেই-ই; উপরন্তু প্রাকৃতিক খাল-নালাও ভরাট করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সিডিএ, ওয়াসা ও চসিককে দিয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। তবুও চট্টগ্রামবাসী তথা বন্দরসংশ্লিষ্ট মানুষের জন্য কোনো আশার খবর নেই। অধিকন্তু, বৈরী আবহাওয়ায় বহির্নোঙরের বড় জাহাজ, পণ্য খালাসের ছোট জাহাজে স্থবিরতা, ইয়ার্ডগুলোর কনটেইনারজটে আমদানি রফতানির বেহাল দশা। এসব চক্রাকার সংকটের সমাধান জরুরি।
কার্যত জলাবদ্ধতা নিরসনে ধীরগতিতে চলা প্রকল্পগুলোর আওতায় খালগুলো খনন করা হচ্ছে না। এমনকি প্রধান খালসহ তিন ফুটের অধিক প্রশস্ত নালাগুলোও পরিষ্কার করার দায়িত্ব রয়েছে সিডিএ’র ওপর। জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান চারটি প্রকল্পের মধ্যে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প সিডিএ দুঃখজনকভাবে দেড় বছরে মাত্র ১৫ শতাংশ সম্পন্ন করেছে। চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত সিডিএ’র আরেকটি প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৯ শতাংশ। এদিকে বহদ্দারহাটের বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পটি অনুমোদনের এক বছর পার হলেও চসিক এখনও হাত লাগাতে পারেনি। ওয়াসার আওতাধীন জলমগ্নতা নিষ্কাশন প্রকল্পটিরও একই দশা। তবে নালা-নর্দমা পরিষ্কার করে চসিক কেবল ব্যর্থ চেষ্টাই সেরেছে।
উল্লেখ্য, এ বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার যে সড়ক মেরামত হয়েছে তা বর্ষা ও জোয়ারের তোড়ে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নগরীটির আর্থসামাজিক উন্নয়নে একটি হতাশা সৃষ্টি হবে। অথচ এই নগরীর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর সারা দেশ অনেকাংশ নির্ভরশীল। শেয়ার বিজের সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জাহাজ নোঙর করার অনুমতি পাচ্ছে না, বহির্নোঙরে পণ্য খালাস রয়েছে বন্ধ। চার শতাধিক জাহাজ অলস সময় পার করছে। খাদ্যশস্য খালাস হচ্ছে না। ফলে সৃষ্টি হয়েছে কনটেইনারজট। লোকসানে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ভোক্তাসাধারণের বড় সংকটে পড়ার আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাসহ হাসপাতাল, দোকানপাট এমনকি ওয়াসা ভবনের নিচতলাও তলিয়ে গেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, পেশাজীবীরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রাস্তায় গাড়ি চলছে না। এমন দশা চলতে থাকলে নগরীটি একেবারেই স্থবির থেকে বিকল হতে পারে। তাই সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশু পদক্ষেপ নেবে এবং সিডিএসহ বিভিন্ন প্রকল্পকাজে ধীরগতির কারণ তলিয়ে দেখে সংকট সমাধা করবে বলে আমদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..