জাতিসংঘের অধিবেশনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল তিনি রওনা হন। এ অধিবেশনে তিনি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকটের ‘মূল কারণগুলো’ তুলে ধরে তা নিরসনে বাংলাদেশের পক্ষে প্রস্তাব বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম জানান, শনিবার দুপুরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে আবুধাবির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন সরকারপ্রধান। সেখান থেকে রোববার (আজ) সকালে ইতিহাদের ফ্লাইটে বিকাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন।

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন।

প্রসঙ্গত, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে ১২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। আগামী ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর চলবে সাধারণ বিতর্ক, যেখানে এ বিশ্ব সংস্থার ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পক্ষে তার বক্তব্য তুলে ধরবেন।

এদিকে এবার এমন একসময় বিশ্বনেতারা জাতিসংঘ অধিবেশনে মিলিত হচ্ছেন, যখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। এতে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রোহিঙ্গাদের এ মানবিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মিয়ানমার তাদের অবস্থানে অনড়। রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে সেনাবাহিনীর অভিযানকে তারা বর্ণনা করছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে। এমনকি রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেও মিয়ানমার সরকার রাজি নয়।

এ পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি তার পশ্চিমা মিত্রদের কাছেও সমালোচিত হচ্ছেন। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও তিনি এবার জাতিসংঘ অধিবেশনে যাচ্ছেন না বলে মিয়ানমার সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শরণার্থী সংকট এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে গুরুতর আকার ধারণ করেছে। লাখ লাখ অসহায় রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দিতে এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ আজ এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। এ সংকটর মুহূর্তে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরবেন। পাশাপাশি সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট প্রস্তাব তিনি জাতিসংঘে উপস্থাপন করবেন।

বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রস্তাব তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সব রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখা হবে।