জাতিসংঘে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: আনানের সুপারিশ বাস্তবায়নে জোর দেবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে অংশ নিতে রোববার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে রাখাইন সংকটকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে তারা ভাষণ ছাড়াও বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলবেন। এজন্য রাখাইন রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সুস্পষ্ট কিছু পরামর্শ দেবে। এতে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক আগামী ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এবারের বিতর্কে মানুষ, শান্তি, নিরাপদ জীবন ও টেকসই বিশ্বের ওপর গুরুত্ব দেবে বিশ্বনেতারা। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অধিবেশন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নিপীড়ন আর বিপুল সংখ্যায় আগমনের পর তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বাংলাদেশ এক নজিরবিহীন সংকটের মুখোমুখি। আর এ সংকটাপন্ন মুহূর্তে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে  রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণগুলো তুলে ধরে তা সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো সুস্পষ্টভাবে পেশ করা হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের ওপরে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক চলমান জাতিগত নির্মূল অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া সব রোহিঙ্গার নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা আমরা চলমান রাখব। এ বিষয়ে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ সময় ওআইসি কন্ট্রাক্ট গ্রুপের এক সভায়ও এ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের সংস্কারসংক্রান্ত রাজনৈতিক ঘোষণা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের সংস্কার, নারীর অবস্থা উন্নয়ন, যৌন নিপীড়নবিরোধী একাধিক আলোচনায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত দুটি উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি। এ অধিবেশনের সময়েই পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণে জাতিসংঘের একটি চুক্তিতে সই করবে বাংলাদেশ। পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন, তৈরি, ব্যবহার, দখল, অর্জন, মজুত, হস্তান্তর এবং স্থাপনা অথবা পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপনসংক্রান্ত কার্যাবলিতে সহযোগিতা করা বা সহযোগিতা চাওয়া থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ চুক্তির খসড়ায়।

এছাড়া নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী পর্যায়ে বেশি কিছু কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। তিনি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক, ওআইসি, ন্যাম, জি-৭৭, কমনওয়েলথ, এশিয়ান কো-অপারেশন ডায়ালগসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার সভায় অংশ নেবেন। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, মিয়ানমারের রাজনৈতিক প্রধান অং সান সু চি জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তার দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সু চি মন্ত্রিসভার একজন মন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।