বাণিজ্য সংবাদ

জাতীয় উৎপাদনশীলতা পদক পেল ২৮ শিল্পপ্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতিতে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।
গতকাল রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে নির্বাচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল প্রডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ ও ব্যবসায়ী সংগঠনের মধ্যে ইনস্টিটিউশনাল অ্যাপ্রেসিয়েশন ক্রেস্ট ২০১৮ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রডাক্টিভিটি অরগানাইজেশন এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। শিল্পসচিব আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।
দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জনের জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, ব্যবসাবান্ধব শিল্প মন্ত্রণালয় দেশের সম্ভাবনাময় শিল্প খাতগুলোর বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিয়ে আসছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক স্থবিরতা কেটে গেছে। এখন অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন শিল্পমন্ত্রী।
শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি শিল্প উদোক্তা ও ব্যবসায়ীদের আরও মনোযোগী হতে হবে। ২০২১ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত উৎপাদনশীলতার গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৫.৬ শতাংশে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জনে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতার মান বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারের বিভিন্ন উৎসাহ-উদ্দীপনামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দেশের শিল্প খাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ছয়টি ক্যাটেগরিতে ২৮টি শ্রেষ্ঠ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ন্যাশনাল প্রডাকটিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।
বৃহৎ শিল্প ক্যাটেগরির টেক্সটাইল অ্যান্ড আরএমজি উপ খাতে দেওয়া হয় স্কয়ার ফ্যাশন্স লিমিটেড, জেনেসিস ফ্যাশন্স লিমিটেড ও উইজডম অ্যাটায়ার্সকে। বৃহৎ শিল্প ক্যাটেগরির খাদ্য উপ খাতে ময়মনসিংহ এগ্রো লিমিটেড, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লি. ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এবং বৃহৎ শিল্প ক্যাটেগরির কেমিক্যাল উপ খাতে দেওয়া হয় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লি., এসিআই গোদরেজ এগ্রোভেট প্রাইভেট লি. ও অলপ্লাস্ট বাংলাদেশ লিমিটেডকে।
বৃহৎ শিল্প ক্যাটেগরির ইস্পাত ও প্রকৌশল উপ খাতে বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লি., বিআরবি কেব্ল ইন্ডাস্ট্রিজ লি. ও ইফাদ অটোজ লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লি., ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লি. ও ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় ।
আর মাঝারি শিল্প ক্যাটেগরিতে ডিভাইন আইটি লিমিটেড, সা’দ মুসা ফেব্রিকস লি. ও কিউএনএস কন্টেইনার সার্ভিসেস লি. এবং ক্ষুদ্রশিল্প ক্যাটেগরিতে বঙ্গ বেকারস লিমিটেড, সান বেসিক কেমিক্যালস লিমিটেড ও মাসকো ওভারসিস লি. ও মাইক্রো শিল্প ক্যাটেগরিতে স্মার্ট লেদার প্রডাকটস ও অনন্যা কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। কুটিরশিল্প ক্যাটেগরিতে গৃহ সুখন বুটিকস ও হামিম ল্যাসিক বিউটি পার্লার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প ক্যাটেগরিতে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লি. ও খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় ।
এছাড়া ইনস্টিটিউশনাল অ্যাপ্রিসিয়েশন ক্রেস্ট ২০১৮-এর জন্য অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প সমিতি, বাংলাদেশ (নাসিব), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনকে।

সর্বশেষ..