জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কর অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেট্রোরেল প্রকল্পসংশ্লিষ্ট জাপানি প্রতিষ্ঠান ও কর্মরত জাপানি নাগরিকদের কর অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও কনস্ট্রাকশন করপোরেশন লিমিটেড এবং এ প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি জাপানি কর্মীদের কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় ন্যাশনাল পাওয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (এনপিটিএনডি) প্রকল্পের জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফুজিকুরা লিমিটেডে কর্মরত জাপানি কর্মীদের কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একাধিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
মেট্রোরেল প্রকল্পের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (ডিএমটিসিএল) বাস্তবায়নে কাজ করছে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও কনস্ট্রাকশন করপোরেশন লিমিটেড। বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদারি, সরবরাহকারী বা কনসালটেন্সি ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু প্রকল্পের অর্জিত আয়ের ওপর এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত জাপানি কর্মীদের আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ থেকে এ অব্যাহতি কার্যকর হবে।
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং স্বস্তিদায়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরা থেকে স্বল্প সময়ে মতিঝিলে পৌঁছা যাবে। উত্তরা থেকে শুরু হয়ে মেট্রোরেল লাইন-৬-এর রুট হবে মতিঝিল পর্যন্ত। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ লাইনে স্টেশন থাকবে ১৬টি। প্রতি চার মিনিট পরপর এক হাজার ৮০০ যাত্রী নিয়ে চলবে মেট্রোরেল। প্রতি ঘণ্টায় যাত্রী পরিবহন করবে প্রায় ৬০ হাজার। ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৪০ মিনিটের মতো। মেট্রোরেলের যাত্রী পারাপারের জন্য রেলকোচ তৈরির কাজ ইতোমধ্যে জাপানে শুরু হয়েছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের লাইন-৬-এর পুরো কাজ আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেজ ৩ ও ৪-এর আওতায় উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার উড়ালপথ ও ৯টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। পরে এই উড়ালপথের ওপরই ট্রেনের জন্য লাইন বসানো হবে। এ প্যাকেজের মেয়াদ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এনপিটিএনডি প্রকল্পে কর অব্যাহতি বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এনপিটিএনডি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে জাপানি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফুজিকুরা লিমিটেড ও ইটোসু করপোরেশন। বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী এসব ঠিকাদারের ঠিকাদারি, সরবরাহকারী বা কনসালটেন্সি ব্যবসার ক্ষেত্রে শুধু প্রকল্প থেকে অর্জিত আয়ের ওপর এবং প্রকল্পে নিয়োজিত জাপানি কর্মীদের আয়ের ওপর আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকল্পটি ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দুই হাজার ৪২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা মোট ব্যয় ধরা হয়।