জাপানি বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য এখন বাংলাদেশ

সেমিনারে জাইকাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ গত এক দশকে আশাতীত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ফলে জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশই বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাইকার চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিতোশী হিরাতা। চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের উন্নয়নের কেন্দ্র উল্লেখ করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য শিল্প ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার সন্ধায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই), বাংলাদেশ এওটিএস এলামনাই সোসাইটি (বিএএএস), চট্টগ্রাম এওটিএস এলামনাই সোসাইটি (সিএএএস) ও জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সহযোগিতায় ‘দ্য রোল অব এসএমই ইন দ্য ন্যাশনাল ইকোনমি-দ্য কেস অব জাপান অ্যান্ড হাউ বাংলাদেশ শুড গো এহেড’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন ফর স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইসেস ইন এশিয়া (আইকোসা)।
সেমিনারে উদ্বোধনী পর্বে চিটাগং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে জাপানের অনারারী কনস্যুল জেনারেল মো. নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশে জাইকা চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিতোশী হিরাতা, চেম্বার সহসভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, আইকোসা স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান, মেম্বার সেক্রেটারি ড. একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন ও সিএএএস’র প্রেসিডেন্ট সাইফুদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ‘বাংলাদেশ ও জাপানে এসএমই খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইকোসা’র প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. নাওহিরো কুরোসী। এছাড়া সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. সালেহ জহুর বাংলাদেশের এসএমই খাতের ওপর তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। সেমিনারে মূল বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম উদ্দিন এফসিএ।
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, জাপান সরকার জাইকার মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। জাপান এসএমই সেক্টরের উন্নয়নের মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলেছে যা বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় মডেল। আমাদের এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হলো নারী উদ্যোক্তা। তাই নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং পরামর্শমূলক সহায়তার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিক ও বেসিক ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। কিন্তু এখনও আর্থিক প্রণোদনা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং যথোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। তিনি জাপানকে বিশেষ শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
জাপানের অনারারি কনস্যুল জেনারেল নুরুল ইসলাম বলেন, জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দ্বার উšে§াচিত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছে যাদের সহযোগিতায় জাপান এগিয়ে আসতে পারে।
আইকোসা’র সভাপতি সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান বলেন, দেশের প্রতিটি চেম্বারে এসএমই’র জন্য আলাদা সেকশন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তিনি প্রতিটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসএমই জোন স্থাপনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানকে ভিয়েতনাম মডেল অনুসরণ ও বাংলাদেশকে আসিয়ানের ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের অনুরোধ জানান।