জাপানের বিনিয়োগ ১৭ বিলিয়ন ডলার : ভারতে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের উদ্বোধন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: বন্ধু দেশ জাপানের হাত ধরে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনের যুগে প্রবেশ করলো ভারত। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারত সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গুজরাটের আহমেদাবাদে দেশটির প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পের বেশিরভাগ তহবিল ১৭ বিলিয়ন ডলার বা ১২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ইউরো জাপান বিনিয়োগ করবে। আশা করা হচ্ছে, ভারতের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো বুলেট ট্রেন যাত্রা শুরু করবে। খবর বিবিসি, এএফপি।

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী আবে গত বুধবার ভারতে যান। গতকাল সকালে সাবারমাটি রেলস্টেশনে দুই দেশের নেতা এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ৭৫০ যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এ বুলেট ট্রেন চলাচল করবে প্রধানমন্ত্রী মোদির রাজ্য গুজরাট ও মুম্বাইয়ের মধ্যে। ৫০৮ কিলোমিটার পথের জন্য এখন যেখানে আট ঘণ্টা সময় লাগে, বুলেট ট্রেন তা কমিয়ে তিন ঘণ্টায় নিয়ে আসবে।

প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ভারতীয় মুদ্রায় এক লাখ ১০ হাজার কোটি রুপি, যা মূলত ভারতীয় রেলওয়ে এবং জাপানি ফার্ম সিনকানসেন টেকনোলজির মধ্যকার একটি যৌথ উদ্যোগ। জাপান এ প্রকল্পের ৮১ শতাংশ অর্থ, মানে ৮৮ হাজার কোটি ভারতীয় রুপির জোগান দেবে। ৫০ বছরে পরিশোধযোগ্য এ সফট লোনে সুদের হার শূন্য দশমিক এক শতাংশ।

জাপানের টিম প্রথম বুলেট ট্রেন চলার আনুমানিক সময় ২০২৩ সাল বলে জানায়, কিন্তু ভারতের রেলমন্ত্রী পিয়ুস গোয়াল জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদি চান প্রথম বুলেট ট্রেনটি ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট যাত্রা করবে, যখন ভারত তার স্বাধীনতার ৭৫ বছর উদযাপন করবে।

নতুন এ বুলেট ট্রেন ঘণ্টায় ২৫০ থেকে ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। মুম্বাই থেকে আমদাবাদ পর্যন্ত ৫০৮ কিলিমিটার পথ অতিক্রম করতে এটির দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। আর এ পথে মোট ১২টি স্টেশন থাকবে।

বুলেট ট্রেন প্রকল্প উদ্বোধনের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, শক্তিশালী ভারত জাপানের জন্য ভালো এবং শক্তিশালী জাপান ভারতের জন্য ভালো। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য জাপানি ভাষায় দিলেও ভাষণ শুরু করেন ‘নমস্কার’ বলে এবং শেষ করেন ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে।

পরে নরেন্দ্র মোদি তার বক্তব্যে বলেন, বড় স্বপ্ন পূরণে নতুন ভারত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মোদি আরও বলেন, বুলেট ট্রেন সুস্থ ও পরিবেশবান্ধব। এর হাত ধরে আর্থিক-সামাজিক ক্ষেত্রে বদল আসবে। ভারতের জন্য এটি একটি আবেগঘন মুহূর্ত আর জাপান ভারতের ‘শক্তিশালী বন্ধু’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে।

ভারতে দিনে ২২ বিলিয়ন যাত্রী ট্রেনে যাতায়াত করে, যেখানে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। নতুন বুলেট ট্রেন চালু হলে এ সময় লাঘব হবে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত আসেন। বুলেট ট্রেন প্রকল্প ছাড়াও ভারত নৌবাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক ‘শিনমেওয়া ইউএস’ ১২ বিমান কিনবে জাপানের কাছ থেকে। আর এ প্রকল্পে ভারত এক দশমিক তিন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। এছাড়া নৌবাহিনীর জন্য আরও অত্যাধুনিক ১৮ বিমান ভারত নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করবে।