সম্পাদকীয়

জাপানের সঙ্গে সহায়তা চুক্তি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হোক

জাপান আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র। ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও বাঙালিদের সঙ্গে জাপানিদের সম্পর্ক শতাব্দীপ্রাচীন। জাপানকে ঐতিহাসিকভাবে বাঙালিরা বন্ধুরাষ্ট্র মনে করে।
১ জুলাই ২০১৬ হোলি আর্টিজান হত্যাকাণ্ডে সাত জাপানি নাগরিক
মারা যান। বিচ্ছিন্ন ওই ঘটনায় জাপানিরা সাময়িক নিরাপত্তার
অভাব বোধ করলেও দেশটির সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্কে এতটুকু নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর উত্থানের পেছনে একটা বড় অবদান জাপানিদের। আমাদের দেশেও এখন জাপানি বিনিয়োগ বাড়ছে। পাশাপাশি জাপান সরকারও উন্নয়ন সহায়তা বাড়িয়েছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এক হাজার ৫৭০ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার ২১২ কোটি টাকা। আগের বছরের চেয়ে এ দেশে জাপানের বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৯ শতাংশ বেশি।
সম্প্র্রতি বাংলাদেশে কারখানা করেছে জাপানের মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড হোন্ডা। এছাড়া ইয়ামাহা মোটরসাইকেলের কারখানা করেছে এসিআই, যেখানে সহায়তা দিয়েছে জাপানের ইয়ামাহা মোটর করপোরেশন। বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ইস্পাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিপ্পন স্টিল অ্যান্ড সুমিতমো মেটাল দেশীয় প্রতিষ্ঠান ম্যাকডোনাল্ড স্টিল বিল্ডিং প্রোডাক্টসের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইস্পাত কারখানা করছে। তারা ১০০ একর জমি বরাদ্দের বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সঙ্গে চুক্তি করেছে।
বুধবার টোকিওতে জাপানের সঙ্গে ২৫০ কোটি ডলারের সহায়তা চুক্তি সই হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে। আমরা আশাবাদী, এতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোয় আরও জোরদার হবে।
এশিয়ার মধ্যে জাপান এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার। দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের রয়েছে অন্যতম উদার বিদেশি বিনিয়োগ ব্যবস্থা। আইন করে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা ব্যবস্থা, কর সুবিধা, যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক সুবিধা ও শতভাগ বিদেশি ইকুইটির সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে প্রমাণ করতে হবে কেবল কাগজে-কলামে নয়, প্রকৃতভাবেই এসব সেবা পান বিদেশিরা।
জাপানিরা কোনো দেশে বিনিয়োগ করলে শুধু মুনাফা করে চলে যায় না। তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্যও কাজ করে। দেশটির জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) আমাদের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। জাপানি কোম্পানিগুলো যেসব দেশে কারখানা করেছে, প্রযুক্তি হস্তান্তর করেছে, তাতে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। ওই দেশগুলোর সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে। এসব বিবেচনায় রেখে বাস্তবানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে আমাদের।

সর্বশেষ..