জালিয়াতির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা নেওয়ায় অভিযুক্ত বার্কলেস ব্যাংক

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ২০০৮ সালে অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে মূলধন বাড়াতে কাতারের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কয়েকশ কোটি পাউন্ড সংগ্রহ করেছে ব্রিটেনের ব্যাংক বার্কলেস, যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বেল আউট এড়াতে সক্ষম হয়েছে। ব্রিটেনের অর্থ-সংক্রান্ত প্রতারণার নজরদারি সংস্থা সিরিয়াস ফ্রড অফিস (এসএফও) এ বিষয়ে ব্যাংকটিকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।

গত বছরের জুনে একই রকম অভিযোগ আনা হয় বার্কলেস ব্যাংকের মূল কোম্পানির বিরুদ্ধে। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির এ অভিযোগ আনা হয়।

বার্কলেসের জন্য এ মামলার নিষ্পত্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভিন্ন দেশে ব্যাংকটি লাইসেন্স হারাবে।

২০০৮ সালের জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে কর্মকর্তাদের সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ এটি। এই প্রথমবারের মতো এটি ব্রিটেনের কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সংকট-সংক্রান্ত অভিযোগ।

ব্যাংকটির সাবেক প্রধান নির্বাহী জন ভারলে, সিনিয়র বিনিয়োগ কর্মকর্তা রজার জেনকিনস, থমাস কালারিজ ও রিচার্ড বাথ ২০০৮ সালে মূলধন বাড়ানোর জন্য প্রতারণা করেন। ২০১২ সালের আগস্ট মাসে ওই প্রতারণার জন্য তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর তদন্তের পর সাবেক ওই চার কর্মকর্তা জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।

এর আগে ২০১৬ সালে নিউ ইয়র্কের এক আদালত যুক্তরাষ্ট্রে ডার্ক পুল বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিনিয়োগকারীদের ভুল পথে পরিচালনার অভিযোগে সাত কোটি ডলার জরিমানা করেন। ওই সময় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে অভিযোগ তোলা হয় ব্রিটেনের এ ব্যাংকটি বিনিয়োগকারীদের স্পষ্ট ধারণা দেয়নি।

ভারলে ও জেনসিনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে অক্টোবরে বেআইনি তহবিল বাড়ানোর সহায়তার অভিযোগ ওঠে। ওই সময় বার্কলেস কাতার থেকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে মূলধন বাড়ায়। এসএফও তদন্তে বলেছে, ওই সময় কাতার থেকে তিন বিলিয়ন ঋণ নেয় ব্যাংকটি, যেখানে ট্যাক্স ফাঁকির ঘটনা ঘটে।

আইএম অইন ফার্মের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান সারহ ওয়ালেস বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এসএফও’র অভিযোগের সিদ্ধান্তটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গত কয়েক বছরে বার্কলেস বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি অপরাধের অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু এসএফও’র তদন্ত কর্তারা ছিলেন খুব সিরিয়াস।