জাল সনদের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিন

ঢাকার খাদ্য ভবনে অভিযান চালিয়ে কর্মচারীদের ৩৮টি জাল সনদ জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সোমবার এর সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে সংস্থার একটি দল আবদুল গনি রোডের খাদ্য ভবনে অভিযান চালিয়ে এসব জাল সনদ উদ্ধার করে। গতকাল শেয়ার বিজে এ বিষয়ে একটি খবর প্রকাশ হয়।
মঙ্গলবার খাদ্য বিভাগ কর্মচারীদের বিভাগীয় পদোন্নতির বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত ছিল। অফিস সহায়ক বা পূর্বের ‘পিয়ন’ পদ থেকে অফিস সহকারী পদে বিভাগীয় পদোন্নতির জন্য উচ্চমাধ্যমিক পাস সনদধারী হতে হয়। এর সুযোগ নিতেই অনেক কর্মচারী জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে পদোন্নতি নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেজন্য তারা ব্যক্তিগত ফাইলে বেআইনিভাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের সনদ অন্তর্ভুক্ত করছিলেন। জাল সনদ জমা দিয়ে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগ দুদকের হটলাইনে কেউ জানালে এ অভিযান চালানো হয়। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য অভিযান পরিচালনা ও সনদ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুদকের এনফোর্সমেন্ট দলের সদস্যরা খাদ্য ভবনে অভিযান চালায়। সেখান থেকে জব্দ করা জাল সনদ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। পদোন্নতির জন্য কর্মচারীদের জমা দেওয়া কাগজপত্র যারা সত্যায়িত করেছেন, এক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। খাদ্য অধিদফতরের জেলা অফিস থেকে নথিপত্র যাচাই না করেই প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো এবং প্রধান কার্যালয়ে পদোন্নতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খাদ্য অধিদফতর একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অধিদফতরের এমআইএসএন্ডএম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মাহমুদ হাসানকে প্রধান করা হয়েছে কমিটির। আমাদের দেশে অনেক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না, এটা আমাদের জানা। এ অবস্থায় আলোচ্য ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি যেন দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন না করে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রহণের সুপারিশ করেÑসেটাই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করতে অধিদফতর যেন কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখায়। এমন দুর্নীতি নিরুৎসাহিত করতে এ ঘটনাকে সুযোগ হিসেবে নেওয়াটাও প্রয়োজন।
বিভিন্ন সময় বিশেষত সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে জাল সনদ ব্যবহারের খবর গণমাধ্যমে উঠে আসে। কখনও চাকরির আবেদনের সময়, কখনও ইন্টারভিউকালে জাল সনদ শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। অনেক সময় এমনও দেখা যায়, চাকরি জীবন শেষ করে পেনশনের অর্থ ছাড় করতে গিয়ে শনাক্ত হলো দীর্ঘ চাকরি জীবন তিনি শেষ করেছেন জাল সনদ দিয়ে। তাই খাদ্য অধিদফতরে উদ্ধার হওয়া জাল সনদের বিষয়টিকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। খাদ্য ভবনের কর্মচারীরা জাল সনদ জমা দিয়ে পদোন্নতি নেওয়ার চেষ্টা করেছে, এটি যেমন ভাবনার বিষয়; এ জাল সনদের প্রাপ্যতাও দুশ্চিন্তার কারণ। এ ঘটনায় জাল সনদ প্রস্তুতকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও দুদককে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় এ প্রকৃতির দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।