জিইর এইচএ গ্যাস টারবাইন

বিশ্বে বিদ্যুৎশিল্পের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান জিই পাওয়ার। বিশ্বের প্রায় দেড়শ দেশে এর গ্রাহক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, বৈশ্বিক বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায়
এক-তৃতীয়াংশ পূরণ করছে তারা।
সম্প্রতি জিই’র এইচএ গ্যাস টারবাইন বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে কার্যক্ষম পাওয়ার প্লান্ট পরিচালনার স্বীকৃতি পেয়েছে।
কার্যক্ষমতায় বিশ্বে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে জিই। জাপানের চুবু ইলেকট্রিক
নিশি-নাগোয়াতে অবস্থিত জিই’র ৭এইচএ.০১ গ্যাস টারবাইনটি ৬৩.০৮ শতাংশ
কম্বাইন্ড-সাইকেল (গ্রস) কার্যক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনটি ৭এইচএ.০১ গ্যাস টারবাইনসম্পন্ন নিশি-নাগোয়া বøক-১ পাওয়ার প্লান্টটি এক হাজার ১৮৮ মেগাওয়াটের অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। এটি জাপানের প্রায় ২.৭ মিলিয়ন বাড়িতে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। ২০১৬ সালে ফ্রান্সের ইডিএফের বুশে পাওয়ার প্লান্টে জিই’র ৯এইচএ.০১ গ্যাস টারবাইনটি ৬২.২২ শতাংশ কম্বাইন্ড-সাইকেল কার্যক্ষমতা অর্জন করে।
ইতোমধ্যে জিই এইচএ গ্যাস টারবাইনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭৫টির বেশি অর্ডার পেয়েছে। জিই’র স্থাপন করা এইচএ গ্যাস টারবাইনগুলো সমন্বিতভাবে এক লাখ ঘণ্টা কাজ করেছে। অসাধারণ কর্মদক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশের আসন্ন এলএনজি-ভিত্তিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার প্লান্টে জিই’র এইচ-ক্লাস গ্যাস টারবাইন উপযুক্ত।
জিই দক্ষিণ এশিয়ার গ্যাস পাওয়ার সিস্টেমের সিইও দীপেশ নন্দা বলেন, পরিচ্ছন্ন, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে বাংলাদেশ উদ্ভাবনী পথ খুঁজছে। এ খাতের শীর্ষ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জিই’র প্রযুক্তিগুলো, যেমন এইচ ক্লাস জ্বালানি থেকে বিদ্যুতে রূপান্তর করতে সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশে গ্রাহকদের ভবিষ্যতে জিই’র এইচএ গ্যাস টারবাইনগুলো ব্যবহার করতে বাড়তি উৎসাহ দেবে।
বাংলাদেশের মেঘনাঘাটে ৫৯০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড-সাইকেল ডুয়েল ফুয়েল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য এইচএ গ্যাস টারবাইন সরবরাহ করতে সামিট পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তি করেছে জিই পাওয়ার। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে জিই ৩৫টিরও বেশি গ্যাস টারবাইন স্থাপন করেছে, যেখানে প্রায় ২.২ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানে হাভেলি বাহাদুর শাহ (এইচবিএস) বিদ্যুৎকেন্দ্রে জিই’র ৯এইচএ.০১ গ্যাস টারবাইন স্থাপন করা হয়েছে। এটি সব কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দেশটির জাতীয় গ্রিডে এক হাজার ২৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ যোগ করতে কম্বাইন্ড-সাইকেল বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। দেশটির বৃহত্তম গ্যাস-ফায়ার্ড কম্বাইন্ড-সাইকেল প্লান্টের মধ্যে এই প্রকল্পটি ২.৫ মিলিয়ন ঘরবাড়ির সমপরিমাণ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম।
কার্যক্ষমতা ছাড়াও জিই প্রকৌশলীরা গ্যাস টারবাইন প্যাকেজকে পুনর্বিন্যাস করেছে। মডিউলার ডিজাইনে রয়েছে
প্রি-অ্যাসেম্বলকৃত প্যাকেজ, যা নিখুঁতভাবে সরবরাহ ও সংযোজন করা যায়। ফলে সংযোজনের সময় ও খরচ দুটোই হ্রাস পায় এবং দীর্ঘ মেয়াদে সহজতর ও দ্রæততর সার্ভিস নিশ্চিত করা যায়।

হ টেলকো-টেক ডেস্ক