জিতলেও ম্যানইউকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন না রোনালদো

ক্রীড়া ডেস্ক: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে একটা সময় মাঠ মাতিয়েছিলেন। বলতে গেলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ওই ক্লাবটি থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর তারকাখ্যাতি। ৯ বছর পর চিরচেনা সেই ক্লাবটির বিপক্ষে গত পরশু জুভেন্টাসের হয়ে মাঠে নামেন তিনি। গোলও করেন, যা চলতি মৌসুমে সিআর সেভেনের চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম গোল। তারপরও কিন্তু সতীর্থদের ভুলে তুরিনের ক্লাবটিকে জেতাতে পারেননি পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। হারতে হয়েছে ২-১ গোলে। স্বাভাবিকভাবেই জয়ী দলকে কৃতিত্ব দেওয়ার কথা রোনালদোর, কিন্তু তিনি সেটা দেননি। উল্টো বলেছেন, এই জয় তাদের প্রাপ্য নয়।
ঘরের মাঠে ৬৫তম মিনিটে কাক্সিক্ষত গোলের দেখা পায় জুভেন্টাস। লিওনার্দো বোনুচ্চির উঁচু করে বাড়ানো বল দুর্দান্ত ভলিতে জালে পাঠান রোনালদো। এদিকে ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে আন্দের এররেরাকে তুলে নিয়ে হুয়ান মাতাকে নামান ইউনাইটেড কোচ। মাঠে নামার সাত মিনিট পর অসাধারণ এক ফ্রি-কিকে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। ৮৯তম মিনিটের সৌভাগ্যপ্রসূত জয়সূচক গোলে এগিয়ে যায় ম্যানইউ। বাঁ দিক থেকে মাতার ফ্রি-কিক গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যাসনির ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর ফিরতি বল গোলমুখে বোনুচ্চির মাথায় লাগার পর আলেক্স সান্দ্রোর গায়ে লেগে ভেতরে ঢুকে যায়, যে কারণে হতাশায় পড়েন রোনালদো। ম্যাচ শেষে এজন্য তার কণ্ঠে ঝরেছে হতাশাÑ‘চ্যাম্পিয়নস লিগ একটা বিশেষ প্রতিযোগিতা, যেখানে জয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকলেও আপনি নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকতে পারেন না, কেননা যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরে যেতে পারে।’
ম্যানইউয়ের চেয়ে পুরো ম্যাচেই বল দখলে এগিয়ে থেকেও সুযোগ নষ্ট করে দলটির ফরোয়ার্ড। যে কারণে হতাশ রোনালদোÑ‘পুরো ৯০ মিনিট আমরা আধিপত্য দেখিয়ে খেলেছি। বেশ কয়েকটা ভালো সুযোগ পেয়েছিলাম, যেগুলো কাজে লাগাতে পারলে আমরা জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারতাম। কিন্তু সেটা না করে আমরা আগেই নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছিলাম ম্যাচের ফল সম্পর্কে। আর এটার শাস্তিই পেয়েছি আমরা।’
ম্যানইউ সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। বলতে গেলে প্রিমিয়ার লিগের দলটি একরকম বাজে খেলেই জিতেছে। তাই দলটির ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন রোনালদোÑ‘এই জয় ইউনাইটেডের প্রাপ্য নয়। আর আমি চাইলেও ভাগ্যকে দোষ দিতে পারব না, কেননা আমরা নিজেরাই জয়টা তাদের একরকম উপহার দিয়ে এসেছি!’