জি-সেভেন অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে বিচ্ছিন্ন যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো থেকে ইস্পাত ও অ্যালমুনিয়াম আমদানিতে শুল্কারোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এর একদিন পর গত শুক্রবার কানাডায় বিশ্বের উন্নত সাত দেশের সংগঠন জি-সেভেনের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন। খবর রয়টার্স।
ফ্র্যান্সের লি মাইরি মুচিনকে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর আরোপ করার সিদ্ধান্ত ‘আইনত অগ্রহণযোগ্য, রাজনৈতিকভাবে অন্যায্য ও অথনৈতিকভাবে ভয়ঙ্কর।’ তিনি গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা জি-সিক্স একসঙ্গে চললেও যুক্তরাষ্ট্র একাই সবার বিরুদ্ধে চলছে। এতে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ছে।’
যুক্তরাষ্ট্র গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও মেক্সিকোর কাছ থেকে ইস্পাত আমদানির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মার্চেই আমদানি করা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে শুল্কারোপের কথা ঘোষণা করেছিলেন। মধ্যস্থতার মাধ্যমে চাইলে কোনো কোনো দেশকে ছাড় দেওয়া যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে ইইউ, মেক্সিকো, কানাডাসহ বেশ কয়েকটি দেশের ওপর তা কার্যকর করতে কিছু সময়ের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রস জানান, কানাডা, মেক্সিকো ও ইউরোপের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় স্থগিতাদেশের মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হচ্ছে না। গত শুক্রবার থেকেই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত বিভিন্ন পণ্য রফতানিতে শুল্ক দিতে হবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রতিবেদন মতে, যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক বসছে তার মধ্যে ধাতবপাতে মোড়ানো ইস্পাত, সø্যাব, কয়েল, অ্যালুমিনিয়াম রোল, টিউবসহ উৎপাদন, নির্মাণ ও তেলশিল্পে ব্যবহার করা কাঁচামাল রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে যে কোনো সময় যে কারও ওপর থেকে এই শুল্ক প্রত্যাহার বা কমাতে পারেন বলেও জানিয়েছেন রস।
ট্রাম্প প্রশাসনের এ ঘোষণার পর ইইউ, মেক্সিকো, কানাডাসহ বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে। মার্কিন কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যরাও মিত্রদেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক চাপানোর সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এ সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন দেশ ও জোটগুলো এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছে।
লি মাইরি বলেন, আমাদের সবার লক্ষ্য হলো মার্কিন কর্তৃপক্ষকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন তাদের করারোপকে বৈধতা দেওয়ার জন্য কোনো সমঝোতা বিতর্কেই যেতে চাচ্ছে না।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক রাখা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোম্পানিগুলোকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে এভাবে শুল্কারোপের ঘোষণায় ইউরোপীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।