জেফ সেশন্সকে বরখাস্ত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পরই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। তারিখবিহীন একটি পদত্যাগপত্রে সেশন্স যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। দেশটির সাবেক এই সিনেটর সম্পর্কে বিভিন্ন সময় তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। খবর: সিএনএন, বিবিসি।
এক টুইট বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, জেফ সেশন্সকে অস্থায়ীভাবে সরিয়ে দিয়ে তার স্থানে চিফ অব স্টাফ ম্যাথু হুইটাকেরকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সকে তার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি; একই সঙ্গে তার ভালো চাই।’
তবে বরখাস্তের এ ঘটনাকে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। কারণ, এর পেছনে ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের ব্যাপারে বিচার বিভাগের তদন্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প।
আলাবামার সাবেক এই সিনেটর আগে ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন। তিনি চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট, আপনার অনুরোধে আমি আমার পদত্যাগপত্র জমা দিচ্ছি।’ প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকার সময় আমরা আইনের শাসনকে বলবৎ রেখেছি।’
সেশন্সের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতবিরোধ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সালের মার্চ মাসে। তখন সেশন্স রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে যে তদন্ত হচ্ছিল, সেখান থেকে সরে আসেন এবং এ দায়িত্ব তার অধীনস্থ রড রোজেনস্টেইনকে দেন। এরপর থেকেই সেশন্সের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই নানা ধরনের সমালোচনামূলক কথা বলতে থাকেন ট্রাম্প। ২০১৭ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি তদন্ত থেকে সরে যাবেনÑএ কথা আমাকে আগে বললে আমি তাকে দায়িত্ব দিতাম না। আমি অন্য কাউকে এ কাজের জন্য নিতাম।’
সেশন্স সরে যাওয়ার পর বিশেষ কাউন্সেল রবার্ট মুলারের চলমান তদন্ত-প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। তিনি ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ক্যাম্পেইন ও মস্কোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কিনাÑএমন তথ্য-প্রমাণ খুঁজে বেড়াচ্ছেন। আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই হয়তো জেফ সেশন্সকে বরখাস্ত করা হতে পারে। অবশেষে সেটিই সত্যে পরিণত হলো।