জেলায় জেলায় বিএসটিআই কার্যালয় প্রতিষ্ঠার তাগিদ

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কাছে জনসাধারণ, বিশেষত ভোক্তার প্রত্যাশা যে অনেক বেশি সেটা নতুন কথা নয়। তবু আমরা খুশি হয়েছি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে শিল্পসচিব কথাটি তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বলে। কিন্তু তিনি তো জানেন, বিএসটিআই জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না। তাই প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লিখিত সভায়। বিএসটিআইকে বলেছেন কার্যক্রম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে, প্রতি জেলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হতে।

বিএসটিআই’র কাজ হলো জনগণের জন্য মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করা। অবাক হয়ে ভাবতে হয়, স্বাধীনতার এত বছর পরও জেলায় জেলায় জরুরি এ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়নি বা যায়নি। এদিকে দেশের অর্থনীতি অনেক বড় হয়ে উঠেছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এটি বেড়ে ওঠার হার উল্লেখ করার মতো। সে অনুযায়ী পণ্যসামগ্রী আর সেবার বাজারও বড় হচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে এবং বাড়ছে ভোগপ্রবণতা। গ্রাম পর্যন্ত একটি বড় ভোক্তাসমাজ তৈরি হয়েছে, যারা দেশে ও বিদেশে উৎপাদিত নানা ধরনের পণ্য কিনে ব্যবহার করে। তাদের সবারই অধিকার রয়েছে মানসম্মত পণ্য ও সেবা ক্রয়ের। সেটি কেবল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে রাখা যায় না। সব ভোক্তাই চেষ্টা করে মানসম্মত পণ্য ও সেবা কিনে ব্যবহার করতে। এও ঠিক, তাদের মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও সচেতনতার অভাব। এ ঘাটতি পূরণের জন্যই বিএসটিআই’র মতো প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলা হয়। তৃণমূল পর্যন্ত এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা সম্ভবত আরও বেশি। সেজন্য আমরা খুশি হয়েছি শিল্প সচিবের বক্তব্য জেনে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএসটিআইকে ‘সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা’ গ্রহণ করতে বলেছেন তিনি। ভালো কাজ করে তাকে ‘দৃশ্যমান’ করে তোলার ওপরও সঠিকভাবে জোর দিয়েছেন।

দেশের সব জেলায় বিএসটিআই’র কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে এবং তা প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে গেলে পণ্য উৎপাদক, আমদানিকারক ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যথাযথ মেসেজ যাবে বলেই আমরা মনে করি। জনগণের জন্য মানসম্মত পণ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে সরকার যে সবিশেষ আগ্রহী, সে বার্তা পৌঁছাতে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সক্ষমতার সদ্ব্যবহারও জরুরি। এটি কতটা হচ্ছে, সেদিকেও আমরা দৃষ্টি দিতে বলব শিল্প সচিবকে। ওই মতবিনিময় সভায় বিএসটিআই মহাপরিচালক তাদের লোকবল ও লজিস্টিক ঘাটতির বিষয়ে বক্তব্য রেখেছেন বলে শেয়ার বিজে প্রকাশিত খবরে জানা গেল। এ কথা আমরা কিন্তু অনেকদিন ধরেই শুনে আসছি। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের যথাযথ ক্ষমতা প্রদানের কথাও বলেছেন মহাপরিচালক। জেলায় জেলায় বিএসটিআই’র কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে যেটুকু সময় লাগবে, তার মধ্যে বিদ্যমান এসব সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগী হতে হবে মন্ত্রণালয়কে।