সারা বাংলা

জোড়াতালি দিয়ে চলছে হবিগঞ্জের শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ

কাজল সরকার, হবিগঞ্জ: কার্যক্রম শুরুর এক বছরেও সংকট কাটেনি হবিগঞ্জের শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের। শিক্ষক সংকট থাকায় জেলা-উপজেলা সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ধার করে আনা প্রেষণের শিক্ষক দিয়েই চলছে পাঠদান। এছাড়া নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় সদর হাসপাতালের ভবনটিও ধার করেই চালানো হচ্ছে মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম। অন্যদিকে সংকট রয়েছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের। ফলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি হবিগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদন পায়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাহমুদা আক্তার ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পরও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। পরে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। অস্থায়ী ক্যাম্পাস নির্ধারণ করা হয় নির্মীয়মাণ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনকে। সহযোগী অধ্যাপক আবু সুফিয়ানকে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ভবন নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়ায় ওই শিক্ষাবর্ষেও শিক্ষার্থী ভর্তি করা যায়নি। পরে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ৫১ শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্য দিয়ে মেডিক্যাল কলেজের যাত্রা শুরু হয়।
মেডিক্যাল কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০২। এদিকে মেডিক্যাল কলেজের গেজেট অনুযায়ী ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য বিভিন্ন বিভাগে ৫৫ জন শিক্ষক প্রয়োজন। কিন্তু কর্মরত আছেন অধ্যক্ষসহ মাত্র ১৫ জন শিক্ষক। সাতজনকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রেষণে (সংযুক্ত) আনা হয়েছে।
এদিকে, হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের ভবনে চলছে মেডিক্যাল কলেজের পাঠদান। এখন পর্যন্ত নিজস্ব ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়নি। অথচ হবিগঞ্জ শহরের বাইপাস রোডের (পৌর বাস টার্মিনালের) পেছনে মেডিক্যাল কলেজের ভবন স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম যেভাবে চলছে তা আশানুরূপ নয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও সরঞ্জাম সংকট থাকার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া যে শিক্ষকরা রয়েছেন তারা একটি মেডিক্যাল কলেজ পরিচালানার জন্য যথেষ্ট যোগ্য নয়। এছাড়া নিজস্ব ক্যাম্পাস ও হোস্টেল না থাকার কারণে অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আবু সুফিয়ান বলেন, ‘সংকট রয়েছে, তবে ভালোভাবেই পাঠদান চলছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস ও যন্ত্রাংশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভবন তৈরি করতে সময়ের প্রয়োজন। আশা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভবন নির্মাণ হবে। আর যে সরঞ্জাম প্রয়োজন তা আমাদের আছে।’

সর্বশেষ..