জ্বালানির দাম বাড়ায় অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদী আলজেরিয়া

শেয়ার বিজ ডেস্ক: জ্বালানি তেল ও গ্যাস থেকে রফতানি আয় বাড়ায় এ বছর আলজেরিয়ার অর্থনীতি ভালো করবে বলে মনে করছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আহমেদ ওয়াহিয়া। ২০১৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতনে জ্বালানি তেল রফতানিকারক শীর্ষ দেশগুলোর সংগঠনভুক্ত (ওপেক) দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি চলছে। খবর রয়টার্স।
আলজেরিয়া তেল রিজার্ভের দিক থেকে আফ্রিকায় দ্বিতীয় ও গ্যাসের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তেলের দর কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় পাঁচ শতাংশ থেকে কমে প্রায় তিন শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বেকারত্বের হার প্রায় ২২ শতাংশ, যদিও সরকারিভাবে বলা হয় দশ শতাংশ। আলজেরিয়ার সরকারি আয়ের একটা বড় অংশই ব্যয় করা হয় ভর্তুকির খাতগুলোতে।
ইউরোপের প্রধান গ্যাস সরবরাহকারী আলজেরিয়া। দেশটি অনেকটাই জ্বালানি রফতানির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট রফতানির ৯৫ শতাংশই জ্বালানি পণ্য, যা মোট বাজেটের ৬০ শতাংশ।
সরকরি তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে আলজেরিয়ার তেল ও গ্যাস রফতানি ২৫ শতাংশ বেড়ে ৭১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে দেশটির এ পণ্য রফতানি হয়েছিল পাঁচ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।
আহমেদ ওয়াহিয়া জানিয়েছেন, ২০১৭ সাল আলজেরিয়ার জন্য খুবই কঠিন বছর গেছে। গত বছর দেশটির বেকারত্ব ১১ দশমিক সাত শতাংশে পৌঁছেছে। তবে চলতি বছর অবস্থা অনেকটাই ভালো যাবে বলে আশা করেন তিনি।
ওয়াহিয়া এও নিশ্চিত করেছেন, আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না, কারণ দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল আজিক বুতেফলিকা পঞ্চমবারের নির্বাচন করতে চাচ্ছেন।
৮১ বছর বয়সি বুতেফলিকা ১৯৯৯ সাল থেকে দেশটির প্রেসিডেন্ট, কিন্তু অসুস্থ থাকায় তিনি জনসম্মুখে আসেন না। ওয়াহিয়া বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসতে চাইলে আমরা গর্ববোধ করব।
১৩২ বছর ধরে ফ্রান্সের উপনিবেশ থাকার পর ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা অর্জন করে আলজেরিয়া। পশ্চিম-উত্তর আফ্রিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ আলজেরিয়ায় ১৯৬২ সাল থেকে এ পর্যন্ত শাসকের পালাবদল হয়েছে সাতবার এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোট পাঁচ ব্যক্তিত্ব।
স্বাধীনতার পর আলজেরিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের শাসক বুতেফলিকা মোট চারটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই চারটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে। এর আগে ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত তিনি আলজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন এবং কিছু সময়ের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্টও ছিলেন।