জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিন ভেবেচিন্তে

সহযোগী এক দৈনিকের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবারও বাড়ানো হবে বিদ্যুৎসহ জ্বালানির দাম। তবে এ সিদ্ধান্ত কবে থেকে কার্যকর হবে, সে ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট করে কিছু উল্লেখ করেননি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব পড়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় যে বেড়ে উঠবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে যদি তাদের আয় না বাড়ে, তাহলে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নি¤œ ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। এজন্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। বর্তমান বাজারে পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে নাভিশ্বাস উঠছে জনগণের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের। এ অবস্থায় সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় যদি বেড়ে ওঠে, তাহলে অনেকের জীবনের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জনগণকে যে দামে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে তা সস্তা। কারণ এ খাতে প্রতি বছর বিপুল ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। তার বক্তব্যের যথার্থতা নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে বাস্তবতা হলো, মূল্যস্ফীতি হলে কিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। এ কারণে কেউ কেউ চলে যাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, যেসব মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে, তাদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে কীভাবে? একইভাবে দারিদ্র্যসীমার নিচে যারা চলে যাবেন, তাদের অবস্থা উত্তরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার মতো কী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের? আমরা মনে করি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এসবের সদুত্তর খুঁজে বের করা দরকার। অর্থমন্ত্রী এও বলেছেন, আর বেশিদিন সস্তায় জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হবে না। এটা ঠিক, বাজার অর্থনীতির বাস্তব কিছু কারণেই এ খাতে অব্যাহতভাবে ভর্তুকি জোগানো থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। এজন্য এমন কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও অটুট থাকে।

জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে বাড়বে ব্যবসা পরিচালন ব্যয়। এ অবস্থায় আমাদের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে বলেই ধারণা। কাক্সিক্ষত সময়ে নিম্ন-মধ্যম থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য ব্যবসা পরিচালন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক অর্থনীতিবিদ। জ্বালানির দাম বাড়ানো হলে এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে, সন্দেহ নেই। এতে রফতানি আয়ও হতে পারে ক্ষতিগ্রস্ত। এখন অভ্যন্তরীণভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ও আমদানির মাধ্যমে এর চাহিদা মেটাতে নানা পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে সরকারকে। বলা হয়ে থাকে, সরকার এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই। কথা হলো, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চিন্তা সার্বিকভাবে অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকেই কি ব্যাহত করবে না? আমরা এটা গুরুত্বসহ ভেবে দেখতে বলব নীতিনির্ধারকদের।