জ্বালানি ও বিদ্যুতে বরাদ্দ ২৫ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় কিছুটা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে। অর্থবছরের জন্য মোট ২৪ হাজার ৯২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী, যা মোট বাজেটের পাঁচ দশমিক চার শতাংশ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য ২২ হাজার ৯৩৬ কোটি আর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের জন্য এক হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ১৮ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা, সংশোধিত বাজেটে যা হয় ২২ হাজার ৮২০ কোটি টাকা।
সংসদে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আমাদের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল মাত্র চার হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। এ প্রেক্ষাপটে আমরা উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন কৌশল সম্বলিত পাওয়ার সেক্টর মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করি এবং পরিকল্পনামাফিক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের ধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করে সবার জন্য যৌক্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গত ৯ বছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি থেকে ১১৮টিতে উন্নীত হয়েছে; বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৫৩ মেগাওয়াটে। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ২০০৯ সালের তিন হাজার ২৬৮ মেগাওয়াট থেকে বর্তমানে ১০ হাজার ৯৫৮ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। বিগত ৯ বছরে দুই হাজার ৬২২ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং এক লাখ ৭৪ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে মোট সঞ্চালন ও মোট বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে ১০ হাজার ৬৮০ সার্কিট কিলোমিটার এবং চার লাখ ৫০ হাজার কিলোমিটার। এ সময়ে বিদ্যুতের সিস্টেম লস ১৬.৯ শতাংশ থেকে ১১.০ শতাংশে এসেছে। সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর হার ৪৭ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নতুন গ্যাস ও তেলক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর জোর দিয়েছি। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে অর্থায়নের অভাবে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান এবং উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হয়। এর বিপরীতে গ্যাস অনুসন্ধান ও ভূকম্পন জরিপ কাজে বাপেক্সকে সহায়তা করার লক্ষ্যে আমরা ২০০৯ সালে ‘গ্যাস উন্নয়ন তহবিল’ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১৫ সালে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল’ গঠন করেছি। আমাদের প্রচেষ্টায় জ্বালানি তেলের মজুদ ক্ষমতা ২০০৯ সালের আট দশমিক ৯ লাখ মেট্রিক টন থেকে বর্তমানে ১২ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। সদ্য আবিষ্কৃত ভোলা গ্যাসক্ষেত্রসহ মোট প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা বর্তমানে ২৭টি। এর মধ্যে ২০টি থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের এক হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দুই হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে আমরা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিরও উদ্যোগ নিয়েছি। দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হিসেবে এলএনজি গ্যাস আমদানির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের মহেশখালিতে দুটি ভাসমান সংরক্ষণাগার ও পুনঃগ্যাসায়ন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।