সারা বাংলা

জয়পুরহাটে টিসিবির পণ্য বিক্রি করছেন না ৯ ডিলার

শামীম কাদির, জয়পুরহাট: রমজান না আসতেই জয়পুরহাটে ভোগ্যপণ্যের বাজার বেশ চড়া। এদিকে রমজানে বাজার সহনশীল রাখতে জেলায় ১১ ডিলারের মধ্যে টিসিবি ভোগ্যপণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিলেও মাত্র দুজন ডিলার ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করছেন পাঁচটি খাদ্যদ্রব্য। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ টিসিবির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রমজান সামনে রেখে বাজারদর সহনীয় রাখতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে প্রতি কেজি চিনি ৪৭, ছোলা ৬০, মসুর ডাল ৪৪, খেজুর ১৩৫ টাকা ও প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ৮৫ টাকায় বিক্রি করছে। অতিপ্রয়োজনীয় টিসিবির সরবরাহ করা এ পাঁচ ধরনের খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করতে জেলায় ১১ ডিলারকে অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু জেলা শহরে মাত্র দুজন ডিলার ট্রাকে করে এসব সামগ্রী বিক্রি করলেও অন্য ডিলাররা টিসিবি পণ্য বিক্রি থেকে বিরত রয়েছেন। লাভ কম, লোকসানের ঝুঁকি ও পরিশ্রম বেশি হওয়ায় তারা টিসিবির পণ্য তুলছেন না। ফলে নিন্ম আয়ের মানুষ কম দামে পণ্য কেনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকার মধ্যে চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, বেসন, রসুন, পেঁয়াজ, মাছ, মাংসসহ সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে দফায় দফায়। বর্তমানে জেলার বাজারগুলোয় চিনি প্রতি কেজি ৬০ টাকা, দেশি মসুর ডাল ৯০-৯৫, বিদেশি ৫৫-৬৫, রসুন ৭০-৭২, পেঁয়াজ ৩৫-৪০, জাতভেদে আলু ১৫-২০, খাসির মাংস ৭৫০ এবং গরুর মাংস ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ রোজার আগে এসব পণ্যের দাম ছিল বেশ কম।
জেলা শহরের মাছুয়া বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন, কালাই উপজেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড বাজারের মুদি দোকানি তানভীর হোসেন, মুরগি ব্যবসায়ী আবদুন নূর এসব তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি জানান, তারা বেশি দামে কেনেন বলে বেশি দামেই বিক্রি করেন। তাদের আগে যা লাভ হতো, এখনও তা-ই হচ্ছে; যদি লাভ হয় তা করেন মূল মহাজনরাই।
এ ব্যাপারে জেলা টিসিবি ডিলার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, লাভ কম আর ঝুঁকি বেশি থাকায় এখন পর্যন্ত তারা মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য সরবরাহ করছেন। রাজশাহী অফিস থেকে একসঙ্গে তিন দিনের সামগ্রী দেওয়া হয়। অন্তত সাত দিনের পণ্যসামগ্রী একসঙ্গে দেওয়া হলে পরিবহন খরচ সাশ্রয় হতো। এ ব্যবস্থা করলে সব ডিলারই পণ্যদ্রব্য তুলতে পারতেন। আর তা সম্ভব হলে একদিকে টিসিবি ডিলাররা কিছুটা লাভের মুখ দেখতেন, অন্যদিকে ক্রেতাসাধারণও উপকৃত হতো।

সর্বশেষ..