ঝিলমিল আবাসিক পার্কে ১৪ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় ১৩ হাজার ৯২০টি ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও মালয়েশিয়ার বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিংস এসডিএন বিএইচডি অ্যান্ড কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি সহায়তার (পিপিপি) মাধ্যমে এ আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে প্রতি বর্গফুট সাড়ে চার হাজার টাকা হারে ফ্ল্যাট বিক্রি করা হবে। গতকাল চুক্তিসই অনুষ্ঠানের সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এ-বিষয়ক চুক্তি সই অনুষ্ঠিত হয়। রাজউক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান ও মালয়েশিয়ান কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ড. শরিফা সাবরিনা নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে এসব ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং এজন্য মালয়েশিয়ান কোম্পানিটি বিনিয়োগ করবে। এটি পিপিপির আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম আবাসন প্রকল্প।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, মধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের লোকদের জন্য এসব ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এক সময় রাজউক শুধুই আবাসিক প্লট উন্নয়নের কাজ করত; কিন্তু দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফ্ল্যাট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অল্প জমিতে অধিক লোকের বসতির সুবিধা গড়ে তুলতেই এ উদ্যোগ। ফ্ল্যাটের মূল্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, স্বল্পমূল্যে এসব ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। এতে প্রতি বর্গফুট সাড়ে চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। ঢাকার মধ্যে এ মূল্য বিরল। এছাড়া পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্রায় ৭০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার সবার জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল আবাসিক পার্ক নামে এ প্রকল্পে ১৬০ একর জমির ওপর ৬০টি ২০ তলা ভবনে ১৪০০ বর্গফুটের ৯ হাজার ১২০টি, ১৪টি ২৫ তলা ভবনে ১৬০০ বর্গফুট আয়তনের দুই হাজার ৬৮৮টি এবং ১১টি ২৫ তলা ভবনে ২২০০ বর্গফুট আয়তনের দুই হাজার ১১২টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মোট জমির ২৩ শতাংশের ওপর ভবনগুলো নির্মিত হবে। বাকি জমিতে ১৩ হাজার ৯২০টি গাড়ি পার্ক করার সুবিধা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার, লেক, পার্ক, খেলার মাঠ, ঝরনাসহ নানা সুবিধা রাখা হচ্ছে। সভায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, মালয়েশিয়ান কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ড. শরিফা সাবরিনা, প্রকল্প পরিচালক আবদুল লতিফ হেলালী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।