সারা বাংলা

ঝুঁকিতে মানিকগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেট

নেহায়েত হাসান সবুজ, মানিকগঞ্জ: দুই তলা ফাউন্ডেশনের ওপর চারতলা ভবন নির্মাণ করায় ঝুঁকিতে রয়েছে মানিকগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেট। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌরসভার মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত এ মার্কেটটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কেটের অবকাঠামোগত দুর্বলতা থাকা সত্ত্বেও দুই তলা ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে চারতলা ভবন। পৌর সভার প্ল্যান পাস না হলেও তিনতলায় চলছে দুটি হাসপাতালসহ অর্ধশত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। বিতর্কিতভাবে দখল করা হয়েছে কাঁচাবাজার ও পৌর সুপার মার্কেটের মাঝের রাস্তার সিংহভাগ। নির্মাণ করা হয়েছে সেন্ট্রাল হাসপাতালের যাতায়াতের নিজস্ব সড়ক। মার্কেটের মূল নকশায় দুটি লিফট থাকলেও মার্কেটটিতে নিজস্ব কোনো লিফট নেই। ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে। মার্কেটের সবগুলো কলাপসিবল গেট প্রায় অকেজো। আলো-বাতাস প্রবেশের ফাঁকা অংশে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে চারটি দোকান। তৃতীয় তলায় উঠার সিঁড়ি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে বিসমিল্লাহ ফ্যাশন নামে আরেকটি পোশাকের দোকান। লিফটের জন্য নির্ধারিত স্থানেও দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মার্কেটের টয়লেট ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
এ বিষয়ে পৌর সুপার মার্কেট বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ জানান, মার্কেটটি অবকাঠামোগতভাবে খুব দুর্বল। যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারপরেও লোড বেয়ারিং টেস্ট ছাড়া তিন ও চারতলা নির্মাণ করা হয়েছে। মার্কেটের ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ারিং অত্যন্ত দুর্বল ও নিন্মমানের। যে কোনো সময় শটসার্কিট হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। এত বড় মার্কেটে একজন স্থায়ী ইলেক্ট্র্রিশিয়ান নাই। সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা হিনতায় ভুগতে হয়। মার্কেটের নিজস্ব ট্রান্সমিটার না থাকায় প্রতি মাসে বাড়তি সমন্ব^য় বিল ব্যবসায়ীদের দিতে হচ্ছে।
পায়খানার টাংকি মার্কেটের তুলনায় এতই ছোট যে, সব সময় দুইটা টয়লেট ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ রাখতে হয়। এ বিষয়গুলো বারবার পৌর কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
মার্কেটের ব্যবসায়ী আলী আখতার আকন্দ জানান, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা নির্মাণের কারণেই যেহেতু মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ, সেহেতু ওই তলাগুলো কেটে ফেলে দেওয়া হোক। সংস্কার কাজের জন্য পাঁচ থেকে ছায় মাস মার্কেট বন্ধ থাকবে। আমরা সাধারণ ব্যবসায়ী, তবুও প্রতি মাসে কর্মচারীদের বেতন দিতে হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ২০-২৫ লাখ টাকার মালপত্র নিয়ে কোথায় গিয়ে উঠবেন, সাধারণ ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, লাখ লাখ টাকার ডেকোরেশন ও মালপত্র নষ্ট হবে যদি মার্কেটটি বন্ধ থাকে। পথে বসতে হবে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের।
এ বিষয়ে পৌর সুপার মার্কেট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, মার্কেট নির্মাণের পর থেকে জানি, এটা দুই তলা মার্কেট। এমনটা বলেই দোকান বরাদ্দ দিয়েছিল মানিকগঞ্জ পৌরসভা। সেখানে এখন চারতলা নির্মাণকাজ প্রায় সম্পন্ন। ঝুঁকির মুখেই অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা করে যেতে হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ মার্কেটটি সংস্কার করার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও মালিকরা বিরাট বিপদের সম্মুখীন হবে। এটা ব্যবসায়ী ও মালিকদের প্রতি না ভেবে ব্যতিক্রম মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সব মালিক ও বণিকদের কল্যাণে মার্কেট বন্ধ রেখে সংস্কারকাজ না করে তৃতীয় চতুর্থ তলা ভেঙে মার্কেটটি ঝুঁকিমুক্ত করা আহ্বান সম্ভব।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম জানান, মার্কেটটি অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। অবকাঠামোগত দুর্বলতায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ তলার প্ল্যান এখনও পাস হয়নি। এগুলো আগের মেয়র বরাদ্দ দিয়েছে। আলো-বাতাশ ঢোকার সব জায়গা আগের মেয়র এর আমলে দখলে চলে গেছে। চরম ত্রুটিপূর্ণ ইলেক্ট্রিক্যাল ওয়ারিং ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যে কোনো সময় আগুন ধরতে পারে। মার্কেটের নিজস্ব একটা ট্রান্সমিটার নেই, প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। সব বিষয়ে বণিক এবং মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
মার্কেটকে ছয় ভাগে ভাগ করে সংস্কারকাজ চলবে। প্রতি ভাগে আমাদের চার থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। সংস্কারকাজ করা হলে চারতলা শুধু নয় আরও একতলা করা যাবে। আমি বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ার আনিয়ে লোড বেয়ারিং টেস্ট ও একটি ফার্মকে দিয়েও পরীক্ষা করিয়েছেন; তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী মার্কেটটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত মার্কেটটি সংস্কার করা না গেলে তবে এটা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে।

সর্বশেষ..