ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান নয়

গতকালের শেয়ার বিজের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ হলেও এ অবস্থায়ই চলছে এসব ভবনে পাঠদান। এ খবর স্বভাবতই উদ্বেগের। মানসম্পন্ন ভবন না থাকায় কোনো কোনো স্কুলে পাঠদান কার্যক্রমই শুধু ব্যাহত হচ্ছে নাÑনিরাপত্তাহীনতাও বেড়ে উঠেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। স্বাভাবিক পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের একাংশ অর্জন করতে পারছে না কাক্সিক্ষত ফল। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে ওখানকার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলো মেরামতের উদ্যোগ দ্রুতই নেওয়া দরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।
একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ভবন মেরামতের জন্য বেশ কয়েকবার আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এর কারণ ঠিক কী, জানা নেই। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে, ওই উপজেলার বিদ্যালয় ভবন মেরামতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব রয়েছে কি? স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, অধিক ঝুঁকিতে থাকা ২১টি বিদ্যালয়ের তালিকা করা হয়েছে। সেগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে। আমরা চাইব, এ লক্ষ্যে কার্যক্রম শিগগির শুরু করা হোক। ঝুঁকিপূর্ণ বাকি ২১টি বিদ্যালয় ভবনের মেরামত কার্যক্রম কবে নাগাদ শুরু হবে, সে ব্যাপারেও তার পদক্ষেপ দেখতে চাইব আমরা। বিদ্যালয় ভবনগুলো জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে বিপদ ঘটতে পারে যে কোনো মুহূর্তে। আমরা চাইব, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই ভবন মেরামতের পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ। মেরামত কার্যক্রম অধিক সংখ্যক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে শুরু করা যায় কি না, সেটিও ভেবে দেখতে হবে।
যেসব বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সেগুলো কত দিন আগে নির্মাণ করা হয়েছে, জানা নেই। লক্ষণীয়, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেও অনেক ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগে। কোনো কোনোটি আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে স্থান নির্বাচনে দূরদর্শিতা বা প্রকৌশলগত যাচাই-বাছাইয়ের অভাবে। মেরামতের ক্ষেত্রেও যদি কাজের মান বজায় রাখা না যায়, তাহলে এর স্থায়ী সমাধান হবে না। এজন্য কর্তৃপক্ষের উচিত হবে বিদ্যালয় ভবন মেরামতে কাজের মান নিশ্চিতে তদারকি বজায় রাখা। যেসব ঠিকাদার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তারা যাতে নতুন করে কাজ না পান, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষার্থীই কিন্তু শিশু। ভবন জরাজীর্ণ হওয়ার কারণে মনে যদি ভীতির সৃষ্টি হয়, তাহলে তাদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা কঠিন হবে। এ অবস্থায় বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ তো বটেই, তাদের শিক্ষার আনুষঙ্গিক উপকরণও করতে হবে আকর্ষণীয়। প্রতিবেদনে রূপগঞ্জ উপজেলার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, সেটি সমস্যার খণ্ডচিত্র মাত্র। এমন সমস্যা রয়েছে দেশের অন্যান্য উপজেলায় গড়ে তোলা বিদ্যালয়েও। আমরা চাইব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিগগিরই সেগুলোর তালিকা প্রণয়ন করবে। আসছে বাজেটেও এগুলো মেরামতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া যায়। বিদ্যালয় ভবন মেরামত কার্যক্রম ঘিরে একশ্রেণির প্রভাবশালীর অনৈতিক কার্যক্রম যেন বেড়ে না ওঠে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের থাকতে হবে সতর্ক।