ঝুঁকি, খ্যাতি ও দূরদর্শিতা

মিজানুর রহমান শেলী: তাছাড়া আপনারা আমাকে জানার সুযোগ করে দিন যদি কোনো মারাত্মক মন্দ খবর থাকে। আমি যে কোনো মন্দ খবরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি; কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই তাতে যদি পচন ধরে, তবে তা নিয়ে আর এগোতে পছন্দ করি না। কোনো মন্দ খবরের সঙ্গে সঙ্গে মুখোমুখি হতে অনিচ্ছার পরিণতি ভালো হয় না। এ ক্ষেত্রে সলোমনের উদাহরণ টানা যায়।
বার্কশায়ারে এখন এমন কিছু কাজ হচ্ছে, যা আপনাকে-আমাকে খুব কষ্ট দিতÑযদি তা কানে আসত। এটিকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আমাদের এখানে ২৫ লাখ কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে কারও দ্বারা কোনো মন্দ আচার-আচরণ বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা একেবারেই শূন্যের কোঠায়। কিন্তু এ পরিবেশ-পরিস্থিতি বজায় রাখতে আমাদের অনেক কিছু ছাড় দিতে হয়। কখনও কখনও আমরা অনেক ভুলকে এড়িয়ে যাই, যা আমাদের কোম্পানির জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একজন বিনিয়োগকারী বা একজন ম্যানেজার হিসেবে আপনার ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে জানতে হবে আপনি কখন কী বলবেন; আবার কখন কী উচ্চারণ করবেন। এর মধ্য দিয়েই আপনি আপনার কোম্পানির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে পারেন। আসলে আপনার ওপরই নির্ভর করবে কোম্পানির ব্যবসায় সংস্কৃতি কেমন হবে। হ্যাঁ, আপনি এটাকে বিধি বা কেবল নিয়মকানুনের খাতা চর্চা করেই বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। তার জন্য জানতে হবে আপনার সংগঠন আসলে কেমন আচরণ করবে; কেমন আচরণ করা উচিত।
অন্য প্রসঙ্গে বলি। আপনারা আমার সঙ্গে কথা বলেন যে কোনো বিষয়ে, হোক তা ছোট অথবা আপনি যত চান তত। কিন্তু আপনারা সবাই উচ্চশিক্ষিত। প্রথম শ্রেণির চাকরি করছেন। যথাযথ দায়িত্ব পালনে আপনাদের কাজও প্রথম শ্রেণির। এমনকি আপনারা আপনাদের যোগ্যতা অনুসারে নিজের মতো করে কাজ করে চলেছেন। আমি মনে করি, এ বিষয়ে আপনাদের আমার সঙ্গে কথা বলার কিছু নেই। আমার সাহায্য আপনাদের প্রয়োজন নেই। কিন্তু একটি বিষয়ে আপনাদের উচিত আমাকে পরিষ্কার করা এবং আমার কাছ থেকে সে বিষয়ে আপনাদের সাহায্য পাওয়ার কিছু আছে বলে মনে করি। আর সেটা হলো, অবসর নেওয়ার পর আপনারা কী করবেন? অবসর-পরবর্তী সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে কোনো পরিবর্তন আসছে কিনা? অথবা হঠাৎ বৃহৎ কোনো মূলধন খরচ বা অধিগ্রহণ নিয়ে আপনারা আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

অডিট কমিটি অডিট করতে পারে না। কেবল কোম্পানির বাইরের অডিটররাই অডিট কাজে অংশ নেবেন। তারা আয়ের খাতে ও যাবতীয় হিসাব-নিকাশ দেখবেন এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে কোনো সন্দেহ সৃষ্টি করছে কিনাÑতা খতিয়ে দেখবেন। এ বাস্তবতাকে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে চলে, তবে তার সংস্কার অপরিহার্য। সংস্কারের ফলে অডিট কমিটির গঠন ও চার্টারে সামান্য হলেও উন্নয়ন ঘটবে। অডিট কমিটির প্রধান কাজ হলো ভালো মানের অডিটর নির্বাচন করা এবং তাদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে আসল ঘটনা উদ্ঘাটন করা। তারা যা জানে বা ধারণা করে, তার সত্যতা নিশ্চিত করা।
এ কাজে কমিটি অডিটরদের নিশ্চিত করবে যে, তাদের বিভ্রান্ত করা হবে না, বরং তারা ম্যানেজমেন্টের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করবে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অডিটররা ঠিক সেভাবে ভাবছেন না। তারা কেবল একজন সিইও’র চোখে সবকিছু দেখে, শেয়ারহোল্ডার বা ডিরেক্টরদের স্বার্থকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। তারা আসলে অডিট কাজটিকে একটি নিয়মিতকরণে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়টিই গুরুত্ব দেয়। দিনে দিনে তারা সিইও এবং সিএফও’র সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে নিতে চায়। বইতে কী লেখা আছেÑসেটা তাদের কাছে হেলাফেলা বলে মনে হয়। তারা আসলে এটা নিশ্চিতভাবে বুঝে গেছে, তাদের চাকরি ও বেতন-ভাতা বা সম্মানী ও সুযোগ কেবল সিইও বা সিএফও দেবেন। এমনকি তারাই নির্ধারণ করবেন ভবিষ্যৎ অডিটের কাজ তারা ফিরে পাবেন কিনা। আবার অন্যান্য কাজের নিয়োগও তাদের হাতে রয়েছেÑএটা তাদের কাছে পরিষ্কার।
ইদানীংকালে একটি নতুন আইন হয়েছে। অডিট কমিটির সদস্যরা ফাইন্যান্সিয়াল বিশেষজ্ঞ চেয়ে দাবি জানিয়েছে। কার্যত এই নতুন বিধানবলে কমিটির হাতে ফাইন্যান্সিয়াল বিশেষজ্ঞ থাকলেও বাহ্যিক বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। তারা আসলে একটি সুখকর সম্পর্ক নষ্ট করবে। এ সম্পর্কটি এমন যে, অডিট কমিটি কোনো স্থানে দ্ব্যর্থহীন চিত্তে অডিটর নিয়োগ দেয় এবং তাদের বুঝিয়ে দেয় তারা নির্ভরযোগ্য অডিটর হিসেবে আস্থা লাভ করবে, যদি কোনো আর্থিক ত্রুটি বা সন্দেহ খুঁজে পায় কিন্তু সেটা সামনে না নিয়ে এসে গোপন করতে পারে।
আমি মনে করি, এ সমস্যার সমাধান অডিট কমিটির সদস্যরা চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে সমাধান করতে পারেন। প্রশ্নগুলো তারা অডিটরদের করবেন। আর যে জবাব আসে, তা রেকর্ডিং বা যে কোনো উপায়ে নথিবদ্ধ করে তারা তাদের শেয়ারহোল্ডারদের পাঠিয়ে দেবেন। প্রশ্নগুলো নি¤œরূপ:
যদি অডিটর নিজেই কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট প্রস্তুত করার দায়িত্ব পেয়ে থাকেন, তবে তারা কি নিশ্চিতভাবেই যে কোনো উপায়ে ম্যানেজমেন্টের নির্বাচিত পদ্ধতির বিকল্প উপায়ে তা প্রস্তুত করবেন? এ প্রশ্নটি বস্তুগত ও অবস্তুগত উভয় পার্থক্যকেই নির্দেশ করে। যদি অডিটর ব্যতিক্রম উপায়ে কোনো কিছু করে থাকেন, তবে ম্যানেজারের যুক্তি ও অডিটরের জবাবÑউভয়ই প্রকাশ করতে হবে। এরপর অডিট কমিটি পুরো বিষয়টি ভালোভাবে মূল্যায়ন করবে।
যদি অডিটর নিজেই একজন বিনিয়োগকারী হয়ে থাকেন, তবে সহজ ইংরেজিতে (ভাষায়) বলতে হবে প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় তিনি কি কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল পারফরমেন্স নিজের স্বার্থে বুঝে নিতে সব তথ্য পাওয়ার অধিকার রাখবেন?
সিইও নিজেই যদি একজন অডিটর হয়ে থাকেন, তবে কি কোম্পানি অডিটের জন্য অন্যদের বেলায় গৃহীত কৌশলই অবলম্বন করতে থাকবেন? যদি তা না হয়, তবে বিকল্প পদ্ধতিটা কী এবং কেন?
অডিটর কি হিসাবরক্ষণ ও পরিচালনাবিষয়ক কার্যাবলি সম্পর্কে সচেতনÑযা রাজস্ব আহরণে উদ্দিষ্ট এবং প্রভাবিত অথবা এক প্রতিবেদনকাল থেকে আরেক প্রতিবেদনকালের খরচে অবদান রাখছে?
যদি একটি অডিট কমিটি এ চারটি প্রশ্ন করে থাকেন এবং সর্বোচ্চ সংস্কারের প্রতি প্রবণ হলে প্রশ্নগুলোর সমন্বিত রূপটি আসলে অল্প গুরুত্বারোপে সক্ষম হবে। উপরন্তু কৌশলটি সময় ও খরচ বাঁচাবে। অডিটররা যখন কর্মস্থলে নিযুক্ত হয়ে যাবেন, তখন তাদের কার্যাবলি ইতোমধ্যেই শুরু করে দেবেন। আর যদি কর্মস্থলে নিযুক্ত না হন, তবে এসব প্রশ্নের ফল দেখার সুযোগ থাকবে।
আমাদের এ চারটি প্রশ্নের প্রাথমিক সুবিধা হলো তারা একটি প্রতিষেধকের মতো কাজ করবেন। একবার যদি অডিটররা জানতে পারেন অডিট কমিটি তাদের পক্ষে ম্যানেজমেন্টের কার্যাবলি বিষয়ে ইতিবাচক সমর্থন চেয়ে কাজ করাবে, অথচ কোনো ত্রুটি মেনে নেবে না, তবে তারা কাজ শুরু করার আগেই এ ভুল কাজটি করা থেকে নিবৃত্ত হওয়ার চেষ্টা করবেন। তা না হলে কোম্পানির বইয়ে কেবল এমনসব অঙ্কের হিসাব উঠবেÑযা বাহ্যিকভাবে দেখে সবাই চমৎকৃত হবেন কিন্তু আসলে সবই ভুল ও মিথ্যা। আসলে বাদীপক্ষের কোর্টকে ভয় করা উচিত।

এই দর্শন রচনাবলি সম্পাদনা করেছেন লরেন্স এ. কানিংহ্যাম
অনুবাদক: গবেষক, শেয়ার বিজ