টক-ঝাল আচারে আগ্রহী অনেকে

রসনায় আচারের জনপ্রিয়তা বহুকালের। নারীরা আম, লেবু, তেঁতুল, সাতকড়া, আমড়া, চালতা, পেঁয়াজ, রসুনসহ নানা উপকরণে বাহারি সাদের আচার বানিয়ে থাকেন। গ্রামীণ সেই সৌখিন পণ্যটি অনেক প্রতিষ্ঠান এখন বাজারজাত করছে চমকপ্রদ সব নাম আর মোড়কে। আচারকে শিল্পে রূপ দিয়ে অনেকে এখন সেই শিল্পের উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন। বাণিজ্যমেলায়ও আচার এনেছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

সিরাজ ভাইয়ের পঞ্চরসের আচার এরই একটি। মেলার পূর্ব প্রান্তে সুন্দরবন ইকোপার্কের পাশে রয়েছে ওই আচারের সম্ভার। অনেকে বলেন, আচারের প্রতি নারীর আগ্রহ বেশি। ওই স্টলেও দেখা গেছে আচারের স্বাদ নিতে তাদের ভিড়। ফাহমিদা বেগম নামে এক গৃহিণী আচার কিনেছেন এখান থেকে। তিনি বলেন, মেলায় ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ আচারের দোকানটিতে চোখ পড়ল। প্রথমে ১০০ গ্রাম আচার কিনে স্বাদ নিই। পছন্দ হয়েছে বেশ! তাই বাসার জন্য আরও বেশি করে নিলাম। স্টলের বিক্রয়কর্মী জয়নাল আবেদিন জানান, তাদের স্টলে প্রায় ২২ ধরনের আচার রয়েছে। আম, বড়ই, জলপাই, চালতা, তেঁতুল, কামরাঙ্গা, আমলকি, রসুনের পাশাপাশি এমন কিছু পদের আচার এখানে আছে, যার স্বাদ রাজধানীবাসীর অনেকে আগে নেননি। আচারের মান সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে সিলেটে এসব আচার তৈরি করা হয়। সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে আচারের ব্যবসা করছে প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ আচারের মান পরীক্ষা করেছে বলেও তারা জানান। ৬০০ থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা পর্যন্ত কেজি মূল্যের আচার দেখা গেছে তাদের স্টলে।

জয়নাল আবেদিন আরও জানান, এবারের বাণিজ্যমেলায় তারা প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছেন। যারা আচার সংগ্রহ করছেন, তারা প্রথমে স্বাদ নিয়ে পরে কিনছেন। মান নিয়ে এখনও কেউ প্রশ্ন তোলেননি। এখানে বিরল স্বাদের আচারের মধ্যে রয়েছে চিকেন চাটনি, কাঁচকলা, পেঁপে, কচুরলতি, তিত করলা, কিসমিস, সৌদি খেজুর, চেরি, সাতকড়া, বিলম্বি, বোম্বাই মরিচ, দেশি মরিচ ও আলুবোখারার আচার। এগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। মেলা শুরুর পর দুই সপ্তাহে ২০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।

পঞ্চরসের এ আচারের দোকানটি মেলায় নতুন এলেও আচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক প্রতিষ্ঠান আগের বছরও এসেছিল বাণিজ্যমেলায়। তেমনি একটি ‘কাশ্মীরি ফুড অ্যান্ড আচার’। এসএমই ফাউন্ডেশনের প্যাভিলিয়নে একটি স্টল নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তার বাইরে আরও একটি স্বতন্ত্র স্টলে নানা স্বাদের আচার বিক্রি করছে তারা। সেখানে গিয়েও দেখা গেছে নানা নামে বৈচিত্র্যময় স্বাদের আচারের সংগ্রহ। এখানের বিক্রয়কর্মীরা জানান, দেশি বিভিন্ন স্বাদ ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আচারের রেসিপি যুক্ত করে বৈচিত্র্য এনেছে তারা।