টাওয়ার স্থাপনে সতর্ক হোক অপারেটরগুলো

সীমান্ত এলাকায় অননুমোদিতভাবে টাওয়ার স্থাপনের কারণে দেশের বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটরকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। অননুমোদিত এসব টাওয়ার স্থাপনের মাধ্যমে কোম্পানিটি যে আয় করেছে, তার গড় হিসাবের ভিত্তিতে এ জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশে মোবাইল ফোন অপারেটর আরও কয়েকটি রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ওইসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এক্ষেত্রে সে প্রশ্ন উঠবে স্বভাবতই। সন্দেহ নেই, তাদের এমন কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘিœত হতে পারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা সীমান্ত এলাকায় দেশে ব্যবসা করা অন্য অপারেটরগুলোর কাজ খতিয়ে দেখেছে কি না, জানি না। আমরা চাইব, তাদের ব্যাপারেও তদারকি জোরদার করা হবে এবং অননুমোদিত টাওয়ার পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও।

সীমান্ত এলাকায় মোবাইল ফোন টাওয়ার স্থাপনে দেশের নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সব ক্ষেত্রে এটা অনুসৃত হয় কি না, সন্দেহ রয়েছে সে ব্যাপারে। বস্তুত টাওয়ার স্থাপনের ক্ষেত্রে কোম্পানি তার ব্যবসায়িক দিকের প্রতিই লক্ষ রাখে বেশি। কিন্তু এটা যদি রাষ্ট্রের নিরাপত্তায় বিঘœ সৃষ্টি করে, সেক্ষেত্রে তাদের উচিত হবে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা। যেসব টাওয়ারের জন্য বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটরটিকে জরিমানা করা হয়েছে, সেগুলো বসানো হয়েছিল ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে। এ অবস্থায় এমন প্রশ্নও উঠবে, বিষয়টি বিটিআরসির নজরে আসতে এত সময় লাগল কেন? নাকি এত দিন ঘুমিয়ে ছিলেন এ দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা? সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব দেখার জরুরি দায়িত্ব থেকে তারা বিরত ছিলেন কি না, সংগত কারণেই সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। এ ধরনের কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সঠিকভাবে তার ভূমিকা রাখতে পারবে না।

দেশের বিভিন্ন সীমান্তে যেসব বাংলাদেশি বাস করেন, তাদের টেলিযোগাযোগ সুবিধা জোগানোর জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় টাওয়ার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বৈকি। এটাও মনে রাখা দরকার, আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনকারী বা বিপজ্জনক অনেক ব্যক্তি এসে আত্মগোপন করে এসব এলাকায়। বিদেশি অপরাধীরা দেশের টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বেআইনি কর্মকাণ্ড ঘটায় অনেক সময়। আর তারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ অবস্থায় সীমান্তে টাওয়ার স্থাপনে কোম্পানিগুলোর উচিত হবে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তাদের অবস্থান যেন সহজে চিহ্নিত করা যায়, সে লক্ষ্যে প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা। কোনো কোম্পানি যদি এটি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সীমান্ত এলাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত রাখতে হবে সংগত কারণেই।

বাস্তবতার কারণেই মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র প্রতিযোগিতা। বস্তুত কোনো বাজারে প্রতিযোগিতা যখন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা বাড়াতে বা তা ধরে রাখতে লিপ্ত হয় কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডে। নীতিকাঠামো সুসংহত না হলে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তেও অনেকে কুণ্ঠাবোধ করে না। সীমান্ত এলাকায় মোবাইল ফোনের টাওয়ার স্থাপনে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেই ঘটনাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কাম্য। টেলিযোগাযোগ খাত থেকে প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আহরণ করে সরকার। এ বিবেচনায় খাতটির কোনো প্রতিষ্ঠানকে অননুমোদিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে দেওয়া যাবে না। এসবের মাধ্যমে কোনো অপারেটর রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিরা স্বাভাবিক টেলিযোগাযোগ সুবিধা পাক, আমরা এটা যেমন চাই; এও চাইবÑসেটি জোগানোর ক্ষেত্রে অনুসৃত হোক যথাযথ পন্থা।