টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে জলজট, ঢলে ২ শিশুর মৃত্যু

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আর হাটহাজারী এলাকায় মাদরাসায় যাওয়ার পথে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় পাহাড়ি ঢলের স্রোতে খালে পড়ে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আজ রোববার সকালে হাটহাজারী এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাদরাসায় যাওয়ার পথে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ত্রিপুরাপাড়ার বৈশাখী (১০) ও লিজিয়া (১১) নামের দুই শিশু রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। সকাল ১০টার দিকে মীরেরহাট এলাকা থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আরেকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন কম চলাচল করছে। ফলে সকাল থেকে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষ ও স্কুলশিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সহকারী আবহাওয়াবিদ মেঘনাথ তঞ্চ্যাঙ্গা।

বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ নিচু এলাকা ডুবে গেছে। আগ্রাবাদ এক্সেস রোড, হালিশহর, পুলিশ লাইন, শান্তিবাগ, হাজীপাড়া, ছোট পোল বড় পোল, ষোলশহর, চান্দগাঁও, বহদ্দারহাট, বাকলিয়া, মুরাদপুরসহ শহরের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলে জলজট তৈরি হয়েছে।

চৌধুরী মো. শোয়েব নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা জানান, মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানি। মুরাদপুরে ফ্লাইওভারের শেষপ্রান্তে জলজটের কারণে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

আগ্রাবাদ থেকে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা নাসরিন জাহান জানান, আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও হালিশহর এলাকায় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

সোহাগ কুমার বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি জানান, ষোলশহর বিমান অফিসের সামনে বিআরটিসির দ্বিতল বাসসহ কয়েকটি বাস পানির মধ্যে আটকে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে আছে।

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী এম এ কাদের জানান, এক্সেস রোড হয়ে আগ্রাবাদ পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৪০ টাকা হলেও বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে ২০০-তে ঠেকেছে। এই সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কোথাও কোথাও ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস।