সারা বাংলা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বন্যা

প্রতিনিধি, ফেনীধ: গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। দুই উপজেলায় মুহুরী নদীর ১০টি ও কহুয়া নদীর ১টি স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুই উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামে গ্রামীণ সড়ক, মাছের ঘের, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এবং বসতবাড়িতে পানি উঠেছে। গতকাল বুধবার ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো তদারকি করতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার পানি আরও বাড়তে শুরু করছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফেনী-পরশুরাম সড়ক তলিয়ে গেছে। এ কারণে ফেনী-পরশুরাম সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোতে যাত্রীদের কাছ থেকে ৩৫ টাকার ভাড়া ৬০-৮০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
মুহুরী নদীর পরশুরাম অংশে গত মঙ্গলবার রাতে সাত স্থানে বেড়িবাঁধ ভাঙনে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভাঙন স্থানগুলো হচ্ছে-চিথলিয়া ইউনিয়নের উত্তর শালধর গ্রামের মহসিন মেম্বারের বাড়ি সংলগ্ন স্থান, দুর্গাপুর গ্রামের কালাম মেম্বারের বাড়িসংলগ্ন স্থান, পৌর এলাকার বেড়াবাড়িয়া শাহপাড়া
গ্রামসংলগ্ন স্থান, উত্তর ধনিকুণ্ডা বদু মিয়ার বাড়িসংলগ্ন স্থান ও নোয়াপুরে আলত মিয়ার বাড়িসংলগ্ন স্থান। এসব স্থানে বেড়িবাঁধের ভাঙনের কারণে উত্তর ধনিকুণ্ডা, চিথলিয়া, শালধর, রাজষপুর, দুর্গাপুর, নোয়াপুর, রামপুর, বেড়াবাড়ীয়া ও অলকা গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এতে উপজেলার মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের উত্তর শ্রীপুর, উত্তর দৌলতপুর, কিসমত ঘনিয়ামোড়া ও জয়পুর এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এতে
উপজেলার ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ শ্রীপুর, নীলক্ষী, পশ্চিম ঘনিয়ামোড়া, কিসমত ঘনিয়া মোড়া, জয়পুর ও উত্তর দৌলতপুর। উজানের পানিতে গ্রামীণ সড়ক, আমনের বীজতলা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এবং ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৫ পরিবারের মাঝে গতকাল বুধবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহির উদ্দিন জানান, গতকাল মুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার এক দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, পরশুরাম-ফুলগাজী উপজেলার বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাসমূহে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও তাদের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে টেকসই বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ..