টিপিপিতে ফিরতে ট্রাম্পের পুনর্বিবেচনা

শেয়ার বিজ ডেস্ক : ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) বাণিজ্য চুক্তিতে ফিরতে পুনর্বিবেচনা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যে চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন, তার চেয়ে অনেক ভালো চুক্তি হতে হবে। গত বছর ক্ষমতায় আসার পরই ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। তিনি এ চুক্তিকে সম্ভাব্য ‘বিপর্যয়’ বলে সমালোচনাও করেছিলেন। খবর রয়টার্স।

গতকাল এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘ওবামা প্রশাসনের করা চুক্তির চেয়ে ভালো চুক্তি হলেই কেবল টিপিপিতে যোগদান করব। ইতোমধ্যে আমরা ১১ দেশের মধ্যে ছয়টির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করেছি। এছাড়া এর মধ্যে জাপানের মতো বড় বাণিজ্যিক দেশের সঙ্গে চুক্তি করতে কাজ চলছে।’

এমন সময়ে ট্রাম্প টিপিপিতে ফেরার শর্ত দিলেন, যখন বাকি ১১টি দেশ গত মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়েই ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি সই করেছে। চিলির সান্তিয়াগোতে চুক্তিটি সই হয়। তবে চুক্তিটির নতুন নাম করা হয়েছে কমপ্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (সিপিটিপিপি)।

নতুন চুক্তিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা বলে অর্থনীতিবিদরা মত দিয়েছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি চীনের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপ নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচিত হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিজ দেশের ব্যবসায়ী এমনকি নিজ দলের কেউ কেউ এর সমালোচনা করেছেন। অবশ্য দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের বিষয়ে কিছুটা নরম সুর লক্ষ করা গেছে। এখন আবার টিপিপিতে পুনর্যোগদানের বিবেচনার কথা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প মনে করেছিলেন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি ছাড়া এই চুক্তি কার্যকর হবে না। তবে ১১ দেশের মন্ত্রীরা বলেছেন, বিশ্ববাণিজ্যে সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান। চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপানের অর্থমন্ত্রী তোশিমিতসু মোটেগি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের জন্য এই চুক্তি এক ঐতিহাসিক অর্জন।

জাপানের সভাপতিত্বে কানাডা ছাড়াও নতুন টিপিপির বাকি সদস্য দেশগুলো হচ্ছেÑঅস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম। এশিয়ায় চীনের বর্ধিত প্রভাব খর্ব করার উদ্দেশ্যে প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রশাসন টিপিপির হাল ধরেছিল, আর এ কারণেই চীন টিপিপিতে নেই।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিপিপি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই টিপিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যাওয়ার পরই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও নিউজিল্যান্ড একে এগিয়ে নিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিল। অস্ট্রেলিয়া সঙ্গে সঙ্গে ‘টিপিপি ১২ বিয়োগ এক’ (টিপিপি ১২ মাইনাস ওয়ান) নামে চুক্তির সম্ভাব্য একটি নামও উপস্থাপন করেছিল।

এদিকে টিপিপির ১৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারটিকে ৯৮ শতাংশ শুল্কমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিভুক্ত দেশগুলোর। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার মোট রফতানির প্রায় এক-চতুর্থাংশেরই গন্তব্য ছিল টিপিপিভুক্ত ১১টি দেশে। আর্থিক মূল্যে হিসাব করলে তা প্রায় আট হাজার ৮০০ কোটি ডলার। অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, টিপিপির আওতায় কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে নতুন করে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে। সেইসঙ্গে ‘আরও অনেক বাজারের সঙ্গে সংযোগ হবে।’ টিপিপি চুক্তির মধ্যে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটিতে সামুদ্রিক খাবার, ওয়াইন, ভেড়ার মাংস, সুতি পশমি কাপড় ও শিল্পপণ্যে পুরোপুরিভাবে শুল্ক অবলুপ্ত করা হবে।

দাভোসে সর্বশেষ অর্থনৈতিক সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, টিপিপির সুবাদে জাপানের বাজারে অস্ট্রেলিয়ার গরুর মাংস ব্যবসায়ীরা আরও প্রবেশাধিকার পাবে। ফলে ‘শুল্ক আরও কমবে’, যা ‘ব্যয়বহুল মার্কিন গরুর মাংসের’ সঙ্গে প্রতিযোগিতা সুবিধা উপভোগ করবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রসহ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১২টি দেশ বহুল বিতর্কিত টিপিপি চুক্তিতে সই করে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার এশিয়া নীতির আওতায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে সইয়ের মাধ্যমে নিজের দেশকে টিপিপি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এ চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের মত, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে।