সম্পাদকীয়

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে রাখুন

বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশ অনেক পেছনে। বর্তমানে ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬তম। এ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এত পেছনে থাকার অন্যতম একটি কারণ, এখানে ব্যবসা শুরু করার খরচ অনেক বেশি। তারপরও নতুন করে ব্যবসার খরচ বেড়েই চলেছে। চট্টগ্রামে ট্রেড লাইসেন্সের ফি এক লাফে ছয় গুণ বাড়ানো হয়েছে, যা সরকারের ঘোষিত নীতির পরিপন্থি। কারণ সরকার ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে উন্নতি করতে চায়। কিন্তু এ ধরনের উদ্যোগ সে ঘোষণার পরিপন্থিই হবে বলে মনে করি।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘ঢাকা-চট্টগ্রামে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি বেড়ে ছয়গুণ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজধানীর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি ছয়গুণ বাড়ছে। ওই তিন সিটি করপোরেশনের বর্তমান ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করা হচ্ছে। একইভাবে দেশের পৌরসভা, জেলা ও অন্য সিটি করপোরেশনেও ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সার্বিকভাবে দেশের প্রায় সবগুলো শহরেই ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়ানো হচ্ছে। এতে সারা দেশেই ব্যবসায় প্রভাব পড়বে বলে আমরা মনে করি।
ব্যবসায়ের খরচ বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা বলা হচ্ছিল। এছাড়া ধারাবাহিকভাবে গত কয়েক বছরের বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সদ্য ঘোষিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটকেও একই ধরনের কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স ফি একবারে ছয়গুণ বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সরকারের নীতির সঙ্গে এই উদ্যোগ সাংঘর্ষিক কি না তাও ভেবে দেখতে হবে।
খবরেই বলা হয়েছে, ঢাকার দুটি এবং চট্টগাম সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্তমানে ৫০০ টাকা হারে লাইসেন্স নবায়ন ফি নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের আয় বাড়াতে ওই তিন সিটি করপোরেশন এলাকায় ফি তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমান ফি’র ছয়গুণ। একইভাবে দেশের বাকি ৯টি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এলাকায় ফি পাঁচ থেকে ছয়গুণ বাড়ছে। একবারে ট্রেড লাইসেন্স ফি ছয়গুণ বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ থাকতে পারে না। যেখানে ব্যবসায়ের খরচ কমানোর কথা বলা হচ্ছে, সেখানে সরকারের আয় বৃদ্ধিতে ফি বাড়ানোর এই উদ্যোগ অপ্রত্যাশিত। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে যৌক্তিক ফি নির্ধারণ করবেন বলে আমরা আশা করি।

 

সর্বশেষ..