ট্রেনযাত্রায়ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক

গাজীপুরের টঙ্গী রেলওয়ে জংশনের অদূরে রোববার সংঘটিত দুর্ঘটনার কারণ ঠিক কী, সে ব্যাপারে শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন বক্তব্য। যথাযথ তদন্ত ছাড়া তা অবশ্য খুঁজে বের করা কঠিন। এ লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে ইতোমধ্যে। প্রত্যাশা থাকবে, কমিটি নির্ধারিত সময়েই প্রতিবেদন দেবে এবং তার মাধ্যমে জানা যাবে এমন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ। এ ধরনের প্রতিবেদন শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে না এমন উদাহরণ দেশে অনেক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ প্রত্যাশিত। টঙ্গীর ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচজন; আহত ৩০ জনেরও বেশি। আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। প্রত্যাশা থাকবে, আহতরা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেন স্বাভাবিক জীবনে। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতে কোনো ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে সড়কপথে কিছু দুর্ঘটনা ঘটে থাকে প্রতিদিন। নানা কারণে যানজটও বেড়ে উঠেছে বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে। নিরাপত্তাহীনতা আর যানজটের ঝক্কি এড়াতেও এখন ট্রেনে যাত্রা করেন যাত্রীদের এক বড় অংশ। সড়কপথের ওপর চাপ কমাতে ট্রেনযাত্রায় উৎসাহ জোগাতে বিভিন্ন সময় আমরাও পরামর্শ দিয়ে থাকি। এ লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকেও। সংবাদ প্রতিবেদনে প্রতীয়মান ওই দুর্ঘটনার পর এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। এটা ভালোভাবে দূর করা না গেলে এর চাপ গিয়ে পড়বে ওই দিক থেকে ঢাকায় প্রবেশের সড়কে। এজন্য আমরা চাইব, যাত্রীদের ভীতি দূর করার ব্যাপারেও নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।

গাজীপুর ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে সকালে রাজধানীতে এসে অফিস ধরার জন্য অনেক চাকরিজীবীই নির্ভর করেন ওই রুটে চলা ট্রেনের ওপর। দুর্ঘটনার কারণে সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটলে তাদের একাংশকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। বস্তুত কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত কোথাও ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটলে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া রেলযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সারা দেশের সঙ্গে। এজন্য রেলপথের এই অংশে দুর্ঘটনা এড়াতে বাড়তি সতর্কতাও কাম্য। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যমতে, ওই স্টেশনের আগে ও পরে সংকেত ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে এরই মধ্যে। এ ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি থাকলে ট্রেন চলার কথা নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় ভুল সংকেতের কারণে ট্রেনটি কীভাবে দুর্ঘটনায় পতিত হলো, সেটিও এক বড় প্রশ্ন। খবরে প্রকাশ, শনিবার রাতেও একই স্থানে দুর্ঘটনায় পড়েছিল আরেকটি ট্রেন। বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ট্রেনের কিছু যন্ত্রপাতি। একই স্থানে পরপর দু’দিন ট্রেন দুর্ঘটনাকে নিছক ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখার উপায় নেই বোধ হয়। রেলপথের ওই অংশে বিশেষ কোনো কারিগরি ত্রুটি রয়েছে কি না, আমরা চাইব তাও খতিয়ে দেখা হবে। তেমন ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে সেটা দ্রুত সারানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থেই।