টেলকো টেক

ট্রেনের টিকিট এখন হাতের মুঠোয়

রেল সেবা অ্যাপ

বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীসেবা আধুনিকায়ন ও সহজতর করার লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে নতুন যাত্রী কোচ সংগ্রহ, রেলপথ সম্প্রসারণ, ডাবল লাইন নির্মাণ, নতুন রুট ও ট্রেন চালুকরণ অন্যতম। এরই ধারাবাহিকতায় রেলের টিকিট আরও সহজলভ্য ও টিকিট কালোবাজারি প্রতিহত করতে ইন্টারনেটভিত্তিক অনলাইন টিকিটের পাশাপাশি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি ও রেলের যাবতীয় তথ্য ও সেবাদানের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে চালু করেছে ‘রেল সেবা’ নামের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপ। গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে একটি অনুষ্ঠানে অ্যাপটি উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঘণ্টায় প্রায় ১৫ হাজার টিকিট ইস্যু করতে সক্ষম অ্যাপটি বাংলাদেশে তৈরি। অ্যাপটি তৈরি করেছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড (সিএনএস)। স্টেশন কাউন্টার, ইন্টারনেট ও মোবাইলফোনভিত্তিক ই-সেবা পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির কারিগরি দায়িত্বে নিয়োজিত এ প্রতিষ্ঠানটি। রেলমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও উৎসাহে রেলওয়ে সেবা ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে অ্যাপটিতে পছন্দসই আসনবিন্যাস অনুযায়ী তাৎক্ষণিক টিকিট কাটার পাশাপাশি সংযোজন করা হয়েছে নানা ধরনের সুবিধা। এর মধ্যে রয়েছে ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতার রেটিং, ট্রেনের অবস্থান, শিডিউল, আসন প্রাপ্যতা, খাবারের মেনু, কমপ্লেইন সেকশন প্রভৃতি। জাতীয় কল সেন্টার (৩৩৩) ইন্ট্রিগেটেড থাকার কারণে যাত্রীরা তাদের অভিযোগ ও মতামত সহজে জানাতে পারবেন। উল্লেখ্য, একই প্রতিষ্ঠান ২০১০ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রেলওয়ে টিকেটিং সেবা চালু করে।
এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশিবার অ্যাপটি ডাউনলোড করা হয়েছে। জনপ্রিয় রুটগুলোর মধ্যে ১০ দিনের একটি পরিসংখ্যানে লক্ষ করা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রামের সুবর্ণ এক্সপ্রেসে নির্ধারিত কোটা তিন হাজার ৬৫২টি আসনের বিপরীতে অনলাইনে রয়েছে দুই হাজার ৫৬৬টি। এর মধ্যে অ্যাপের মাধ্যমে ৩৯৮টি, ঢাকা-খুলনা রুটের সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ১১০টি আসনের বিপরীতে অনলাইনে ৮৯টি, যার মধ্যে অ্যাপের মাধ্যমে ২৫টি ও তিস্তা এক্সপ্রেসে নির্ধারিত কোটা এক হাজার ৪৭৯টি আসনের বিপরীতে অনলাইনে ৯৪১টি, যার মধ্যে অ্যাপের মাধ্যমে ২৫০ টিকিট বিক্রি হয়েছে। অ্যাপটি সম্পর্কে যথাযথ প্রচার ও ব্যবহারে অভ্যস্ত হলে অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি বাড়বে।
এ বিষয়ে দুই ভারতীয় আইটি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘রেল সেবা’ অ্যাপের কারিগরি দিক সহজ, উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। অন্যান্য অ্যাপের তুলনায় এ অ্যাপটি কারিগরি দিক থেকে বেশ জটিল। তাদের মতে, প্রায় ১০০টির মতো অনলাইন স্টেশনের সব যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী সিট সাময়িকভাবে বণ্টন করা, পেমেন্ট গেটওয়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা, টিকিট ইস্যু করা প্রভৃতি জটিল বিষয় সমাধান করে স্বল্প সময়ের মধ্যে অ্যাপটি প্রস্তুত করে জনগণের জন্য উম্মুক্ত করা বেশ দুরূহ। এজন্য দক্ষ জনবলের পাশাপাশি প্রয়োজন ডেটা সেন্টার, দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসহ ব্যয়বহুল অবকাঠামো। সিএনএস এক্ষেত্রে পুরোপুরি সফল। তারা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (মার্কেটিং) লে. কর্নেল (অব.) তারেক বলেন, অ্যাপটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশি প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। অ্যাপে ছোটখাটো কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি যদি থাকে, তাহলে গঠনমূলক ও ইতিবাচক বিষয়গুলো দ্রুত নিরসন করা হবে। তিনি আরও বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানটি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রয়াসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি সেবার মান ও রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য নিরলস কাজ করে চলেছে। তবে নামসর্বস্ব কিছু আইটি প্রতিষ্ঠান সস্তা প্রচারের মোহে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অ্যাপটি সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। তাই তিনি জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সরাসরি সিএনএসের কাছে গঠনমূলক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখার অনুরোধ করেছেন।
ওয়ালেট কিংবা কার্ডের লেনদেনের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়েনির্ভর হওয়ায় এ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকে টিকিট না পেলে আ্যপ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত যখন কোনো যাত্রী টিকিট কেনার জন্য অ্যাপের মাধ্যমে সিট সিলেকশন করেন, তখন তা পরবর্তী পাঁচ মিনিটের জন্য তার অনুকূলে সাময়িকভাবে বরাদ্দ করা হয়। এ সময়ের মধ্যে অন্য কোনো যাত্রী তা পছন্দ বা কিনতে পারেন না। এই পাঁচ মিনিটের মধ্যেই যাত্রীকে পেমেন্ট গেটওয়ে তথ্য দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করে টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। পেমেন্টের তথ্য গেটওয়ে থেকে নির্ধারিত সময়ের মাধ্যমে না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে টিকিট দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে সরাসরি কেটে নেওয়া টাকা কার্ড কিংবা ওয়ালেটে নির্দিষ্ট সময়ে ফেরত চলে যায়। ফলে গ্রাহকদের হারানোর কিছু নেই। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এ অ্যাপ দিয়ে নির্ধারিত কোটায় সব টিকিটই বিক্রি করা যাবে। অ্যাপটির ফেসবুক পেজ facebook.com/groups/railsheba/। টুইটার অ্যাকাউন্ট  Rail-Sheba ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট Rail Sheba

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকিট প্রাপ্তি
www.esheba.cnsbd.com-প্রবেশ করুন। দুটি অপশন পাবেন একটি সাইন ইন, অন্যটি সাইন আপ। যাদের আইডি খোলা আছে তারা ই-মেইল, পাসওয়ার্ড, সিকিউরিটি কোড দিয়ে সাইন ইন করে আইডিতে ঢুকবেন। নতুন আইডি খুলতে সাইন আপে ক্লিক করে নিবন্ধন করে নিন।
ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটতে চাইলে Purchase Ticket :অপশনে ক্লিক করলে একটি পেজ ওপেন হবে। ওই পেজে প্রবেশ করে Station from (যাত্রার শুরুর স্টেশন) ও Station to (গন্তব্য স্টেশন) বাছাই করুন। Journey Date-এ ভ্রমণের দিনক্ষণ বাছাই করুন। এবার আপনার যে ধরনের টিকিট দরকার, সেটা Class-এর ঘরে লিখুন। সব শেষে Search Train বাটনে ক্লিক করুন।
ট্রেন বাছাইকরণ: আপনি যে তারিখে যে রুট বাছাই করেছেন, সেই রুটে এক বা একাধিক ট্রেন রয়েছে। কোনটা কখন ছাড়বে, সব দেখা যাবে ওয়েবসাইটে। এখন যে ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান, সেটার অপশনে কতজন প্রাপ্তবয়স্ক, কতজন অপ্রাপ্তবয়স্ক তা বাছাই করুন। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কসহ একসঙ্গে চারজনের বেশি টিকিট কাটা যাবে না।
টিকিট বাছাইকরণ: এখানে দুটি অপশন রয়েছে: Auto Selection I Seat Selection। অটো সিলেকশন সিলেক্ট করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসন বরাদ্দ হয়ে যাবে। আর সিট সিলেকশনে ক্লিক করলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী আসন বেছে নিতে পারবেন।
আসন বাছাইকরণ: সিট সিলেকশনে ক্লিক করলে আপনাকে নির্ধারিত বগি বা বগিগুলোর আসন পরিকল্পনা দেখাবে। এখানে সবুজ চিহ্নিত আসনগুলো এখনও অবিক্রীত রয়েছে, যা আপনি কিনতে পারবেন। আসন বাছাই করার পর পাশের ছোট ট্যাবে আপনার আসনগুলোর নম্বর, ভাড়া, ভ্যাট, সার্ভিস চার্জসহ ভাড়া দেখাবে। এরপর আপনার লিঙ্গ (পুরুষ বা নারী), বয়স সিলেক্ট বা পূরণ করুন। অটো সিলেকশন করলে তারাই আপনাকে দেখাবে কয়টি আসন আছে, ভাড়া কত। তবে কোন বগি, কোন আসন তা দেখাবে না। এরপর লিঙ্গ ও বয়স সিলেক্ট বা বাছাই করুন। ভ্রমণের ১০ দিন আগে থেকে ১২০ ঘণ্টার আগ পর্যন্ত আসন বাছাই করতে পারবেন। ভ্রমণের ১২০ ঘণ্টা আগে থেকে ভ্রমণের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সিট সিলেকশন বা বাছাইকরণ অপশন থাকবে না। তখন আপনাকে অটো সিলেকশনে যেতে হবে। টিকিট কেনার সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা।
পেমেন্ট: যেকোনো ভিসাকার্ড, মাস্টারকার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেস, ডিবিবিএল নেক্সাস, ডিবিবিএল মোবাইল ব্যাংকিং (রকেট) থেকে টিকিটের দাম পরিশোধ করা যাবে। সপ্তাহে দুটি টিকিটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আটটি আসন কেনা যাবে।
এরপর ই-মেইলে ঢুকলে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে মেইলে একটি পিডিএফ ফাইল প্রেরণ করা হবে। এখানে ডাউনলোড ও প্রিন্ট অপশন রয়েছে। কাউন্টার থেকে টিকিটের হার্ডকপি নিতে চাইলে মোবাইল ফোন নম্বর ও টিকিটের পিন নম্বর একটা কাগজে লিখে কাউন্টারে দিন, টিকিট পেয়ে যাবেন।
যার নামে আইডি খোলা হয়েছে, টিকিটও তার নামেই হবে। যদি তিনি ভ্রমণ করেন, তাহলে শুধু পিডিএফের প্রিন্ট কপি নিয়েই ভ্রমণ করতে পারবেন, কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করার দরকার পড়বে না। তবে অন্য কোনো ব্যক্তি এ পিডিএফ নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে তাকে কাউন্টার থেকে মোবাইল ফোন নম্বর ও টিকিটের পিন নম্বর দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে ভ্রমণ করতে হবে।

অ্যাপ ব্যবহার করে
‘রেল সেবা’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে প্রথমে https://play.google.com/store/apps/details?id=com.cnsbd.railsheba এ লিংক বা Play Store থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। বর্তমানে শুধু অ্যানড্রয়েড সংস্করণ রয়েছে অ্যাপটির। শিগগির আইওএস সংস্করণও আনা হবে। ডাউনলোডের পর ইনস্টল করে চালু করলে লগইন অপশন দেখা যাবে। অ্যাপে আপনি নিবন্ধিত হলে ফোন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। আপনি বাংলাদেশ রেলওয়ের
ই-সেবা ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে সেই আইডি ব্যবহার করে লগইন করতে পারবেন। আর যদি অ্যাপটি নিবন্ধন না করে থাকেন, তাহলে নতুন করে সাইন আপ বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর নতুন একটি পেজ চালু হবে। এখানে নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। তারপর আপনার ফোনে একটি কোড আসবে। কোডটি অ্যাপে সাবমিট করুন, আইডি তৈরি হয়ে যাবে। পরবর্তী সময়ে টিকিট কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে অ্যাকাউন্ট আপডেট করে নিতে হবে।
যেভাবে কিনবেন টিকিট: প্রথমে অ্যাপের
purchase অপশনে যেতে হবে। এরপর from station অপশনে ক্লিক করে ড্রপ ডাউন মেন্যুতে কোন স্টেশন থেকে যাবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। যদি স্টেশন না থাকে, তাহলে সার্চ বাটন থেকে স্টেশনের নাম লিখলে স্টেশন খুঁজে পাবেন। একই পদ্ধতিতে কোথায় যাবেন তা নির্ধারণ করতে হবে to station অপশন থেকে। এরপর journey date থেকে তারিখ নির্ধারণ করেsearch train বাটনে ক্লিক করুন। ট্রেনের তালিকা পেয়ে যাবেন। যে ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে তা দেখা যাবে। এবার select class অপশনে ক্লিক করে কোন ধরনের আসন নেবেন, তা নির্ধারণ করুন। এরপর adult ও I child অপশন থেকে টিকিটের ধরন ও সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। select seat অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আসন নির্বাচন করতে হবে। নতুন একটি পেজে টিকিটের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেখা যাবে। এখান থেকে pay now বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে অনলাইনের পেমেন্ট অপশন দেখা যাবে। ভিসাকার্ড, মাস্টারকার্ড, এমেক্স কার্ড ও বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। উল্লেখ্য, সিলেকটেড পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পাঁচ মিনিটের মধ্যে টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় টিকিট কাটা সম্ভব হবে না। টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলেও টিকিটের টাকা কর্তন করা হলে নির্ধারিত পেমেন্ট গেটওয়ে কর্তৃপক্ষ আট কর্মদিবসের মধ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেবে। টাকা পরিশোধের ৩০ মিনিটের মধ্যে অ্যাপ History থেকে টিকিট ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়া ফিরতি ইমেইলে গ্রাহকরা টিকিটের কনফারমেশন পাবে।

 

 

 

 

 

সর্বশেষ..