ঠাকুরগাঁওয়ের সূর্যপুরী আমগাছ দক্ষিণ এশিয়ায় বৃহত্তম

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী মণ্ডুমুলা গ্রামে রয়েছে উপমহাদেশের সব চেয়ে বড় আমগাছ। কৃষি গবেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সূর্যপুরী আমগাছ এটি।
জানা গেছে, প্রায় ২০০ বছর বয়সী গাছটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে প্রায় তিন বিঘা জমিজুড়ে রয়েছে। ২০ হাত বেড় ও ৫০ থেকে ৬০ হাত উচ্চতা বিশিষ্ট এ প্রাচীন গাছটির চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে ১৯টি বড় ডাল। প্রতিটি ডালের দৈর্ঘ্য ৪০ থেকে ৫০ হাত। গাছটি দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে আসেন।
গ্রামের ৭০ বছর বয়সী ইসহাক আলী বলেন, আমার বাপ-দাদারা সবাই এ আমগাছটি দেখছেন। আমাদের বয়স বাড়ছে, বলা যায়, শেষ হয়ে যাচ্ছে তারপরেও এ গাছটি আমাদের অভিভাবকের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে যুগ যুগ ধরে। পৈত্রিক সূত্রে এ গাছটির মালিক দুই ভাই সাইদুর ইসলাম ও নুর ইসলাম। তারা জানান, আমগাছটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করে কয়েকশ’ মানুষ। তাই গাছটির চারপাশে টিন দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য কাজ করেন সাতজন শ্রমিক। তাদের মুজুরি ও নিজেদের আয়ের পথ হিসেবে দর্শানার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে টিকিট প্রতি ১০ টাকা। আমের মৌসুমে এ গাছটি থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার সূর্যপুরী আম বিক্রি করা হয়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কেএম মাউদুদুল ইসলাম বলেন, সূর্যপুরী আমগাছটি আরও নিবিড়ভাবে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। গবেষণার জন্য ইতোমধ্যে কৃষিগবেষণা কেন্দ্রে থেকে গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করে গেছেন গাছটি।

শামসুল আলম