ঠাকুরগাঁওয়ে ড্রাগন চাষ

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ড্রাগন ফল। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে ফলটি। সংগত কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকের মধ্যে বেশ উৎসাহ সৃষ্টি করে ড্রাগন। বাদ পড়েনি ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরাও। তারা ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন।

জেলার হরিপুর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল, বালিয়াডাঙ্গী ও সদর উপজেলায় ড্রাগনের চাষ করছেন স্থানীয় চাষি। নতুন এ ফলের চাষাবাদ দেখে অন্যরাও আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগ থেকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে তাদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও হর্টিকালচারের তথ্যমতে, পাঁচটি উপজেলায় প্রায় চার একর জমিতে ১০টি প্রদর্শনী প্লটে ড্রাগন চাষ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রাছে ৭০ থেকে ৮০টি ফল ধরে। জৈবসার দিয়েই এ ফল চাষ করা সম্ভব।

সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক মাজেদুর রহমান জানান, এ ফল চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। কারণ জৈবসারেই গাছ বেড়ে ওঠে। রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হয় না। ১০ ফুট অন্তর এক সঙ্গে চারটি গাছ রোপণ করতে হয়। গাছের সঙ্গে যুক্ত করতে হয় পিলার। চারটি গাছ জড়িয়ে রাখে একটি পিলারকে। মূলত এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাসে দুবার ফল তোলা যায়। বর্তমানে মাঠ থেকেই ৪০০ টাকা কেজি দরে ফল বিক্রি করছেন কৃষক।

৫০ বছর পর্যন্ত এ গাছ ফল দেয় বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। হর্টিকালচার বিভাগ থেকে চারা নিয়ে জেলার কৃষকরা রোপণ করছেন। ফলে দিন দিন এ ফলের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলা হর্টিকালচার বিভাগের বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আ. রহিম জানান, আমরা গত দুবছর ধরে এ ফল চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করছি। প্রথমে বিনামূল্যে চারা দিয়ে কৃষককে সহায়তা করেছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মাউদুদুল ইসলাম জানান, ড্রাগন ফল চাষাবাদে জেলার হর্টিকালচার বিভাগ প্রথম উদ্যোগ নেয়। আশা করছি, আগামী মৌসুমে ড্রাগন ফল চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

 

মো. নাহিদ রেজা, ঠাকুরগাঁও