সারা বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে পাট আবাদ

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে পাটের আবাদ। প্রতি বছর ধানে লোকসান গোনায় কৃষক ধানের প্রতি অনেকটা বিমুখ হয়ে বর্তমান পাটের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধির কারণে পাটচাষ দিন দিন বাড়ছে।
মৌসুমের শুরুতেই বাজারে বোরো ধানের দামে ধস নামায় জেলার চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। চড়া দামে বীজ, সার, কীটনাশক ও মজুর দিয়ে ধান চাষ করে কাটার পর কৃষক পাচ্ছেন না ধানের ন্যায্য দাম। ফলে ফলনে খুশি হলেও বিক্রি করতে গিয়ে মাথায় হাত পড়ছে চাষিদের। ধানের উৎপাদন খরচ না ওঠায় তারা পাট চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯২০ হেক্টর জমি। সেখানে আবাদ হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৬০ হেক্টর। এদিকে গত মৌসুমে আবাদ হয়েছিল পাঁচ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের চেয়ে ১১০ হেক্টর জমি বেশি। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় আবাদ হয়েছে এক হাজার ২১০ হেক্টর, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় এক হাজার ৬০০ হেক্টর, রানীসংকৈলে ৯৫০ হেক্টর, পীরগঞ্জ উপজেলায় এক হাজার ২৫০ হেক্টর এবং হরিপুর উপজেলায় পাট আবাদ হয়েছে ৮০০ হেক্টর জমিতে। ঠাকুরগাঁওয়ে এবার বিভিন্ন জাতের পাট চাষ হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকরা দেশি, তোষা, মেশতা ও উঁচু মাটিতে কেনাফ এইচ বি-৯৫ জাতের পাট আবাদ করেছেন।
সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের কৃষক আবদুর রশিদ জানান, তিনি দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। আশা করছেন পাটের ভালো দাম পাবেন। তাহলে বোরো ধানের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন।
ঠাকুরগাঁও কৃষি বিভাগের উপপরিচালক আফতাব হোসেন জানান, সার, বীজ, তেল ও বিদ্যুতের তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। পোকার আক্রমণেও পাটের তেমন একটা ক্ষতি হয়নি। আশা করি এবার এ জেলায় গত বছরের চেয়ে বেশি পাট উৎপন্ন হবে।

 

সর্বশেষ..