ঠাকুরগাঁও চিনিকল রক্ষায় কর্মচারীদের আখ চাষ

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: আখের অভাবে বন্ধ হতে বসা ঠাকুরগাঁও সুগার মিল চালু রাখতে শেষ পর্যন্ত শ্রমিক-কর্মচারীরা আখ চাষে নেমে পড়েছেন। মিল ও নিজেদের চাকরি রক্ষায় প্রায় ৬০০ একর জমিতে এবার আখ চাষ করছেন তারা।
মিল কর্তৃপক্ষ জানায়, গেল মৌসুমে এক লাখ তিন হাজার টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও মাড়াই হয় সাড়ে ৮৪ হাজার টন। এ আখ থেকে উৎপাদন হয় সাড়ে চার হাজার টন চিনি। উৎপাদিত চিনি অবিক্রিত থাকায় চরম অর্থ সংকটে পড়েছে চিনিকল। মিলে পড়ে আছে চার হাজার ৯৪৩ টন চিনি। চিনি বিক্রি না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার মাসের বেতনভাতা বন্ধ রয়েছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে আছেন তারা। এমনকি মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই মিল ও নিজেদের চাকরি বাঁচাতে আখ চাষে নেমে পড়েছেন মিলের শ্রমিক-কর্মচারীরা। তারা ৬০০ একর জমিতে এবার আখ চাষ করছেন। জমি নেই অনেকের, তাই চাকরি বাঁচাতে জমি ভাড়া নিয়ে আখ চাষ করছে ঠাকুরগাঁও চিনি কলের শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তারা।
মিলের জিএম (কৃষি) জাকির হোসেন জানান, এবার আখ সংকট মোকাবিলায় আট হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে আবাদ হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার একর জমিতে। আর এর মধ্যে শ্রমিক-কর্মচারীরা আবাদ করেছেন ৬০০ একর জমিতে, যা একেবারেই নতুন একটা বিষয়।
এদিকে মিলে আখ সরবরাহ করে সময় মতো টাকা না পাওয়ার অভিযোগ চাষিদের। ২৯ মাইল আখ ক্রয়কেন্দ্রের আখ চাষি রুহুল আমিন জানান, আখ চাষের উপকরণ, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ না করাসহ নানা কারণে আখের আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারা। আখের জমিতে গম-ভুট্টা, সবজিসহ লাভজনক ফসল ও ফলমূল চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন তারা। অপর আখচাষি রহিমউল্লাহ জানান, সময়মতো চাষিদের সার-বীজ-কীটনাশক সরবরাহ ও মিলে আখ দেওয়ার সময়েই টাকা পরিশোধ করা হলে কৃষকরা আবার আখ চাষে ফিরে আসবেন।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শামীম হোসেন জানান, কৃষি উৎপাদনের মূল প্রবণতা এখন মুনাফা, তাই অন্যান্য অর্থকরী ফসলের সঙ্গে মিল রেখে আখের দাম বাড়ানো, চাষিদের প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলোভ্য ও সস্তা করা এবং আখের সাথী ফসলসহ প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হলে কৃষকরা ফের আখ আবাদ করবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে আখ চাষ অস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে। কিন্তু সুদূরপ্রসারিভাবে সুগারমিলকে টিকিয়ে রাখতে আখচাষিদের দিয়েই আখ চাষ করাতে হবে। দূরদর্শী পদক্ষেপ নেওয়া হলে সেটা সম্ভব বলে।
ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ব্যববস্থাপনা পরিচালক আবদুস শাহী জানান, মিলের উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় বেতন-ভাতা দিতে হিমশিম খেতে হচেছ। তবে আখচাষের জন্য কৃষি উপকরণ ও ঋণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।