বিশ্ব বাণিজ্য

ডলারের বিনিময় মূল্য কমানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোদোমে বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেই কমছে চীনা মুদ্রা ইউয়ানের দর। বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ইউয়ানের সুযোগে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানিতে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বেইজিং। এ প্রেক্ষাপটে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান কিছুটা শিথিল করার পক্ষে ফের অবস্থান গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর: সিএনবিসি।
গত সোমবার তিনি বলেন, ‘চীন নিজের মুদ্রার দর ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বিপুল সুবিধা নিচ্ছে। ভারসাম্য আনতে আমাদেরও একই পন্থা অবলম্বন করতে হবে।’
সিএনবিসি নিউজের স্কুইকবক্স অনুষ্ঠানের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যেভাবে সরাসরি নিজ দেশের মুদ্রানীতিকে প্রভাবিত করতে পারেন, তা রীতিমতো অন্যায়। এটা চীনের পক্ষে বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে।
ট্রাম্প এমন সময় এসব অভিযোগ করলেন, যখন চলতি বছরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে চলে এসেছে ইউয়ান। এর পেছনে চীনের বৈদেশিক মুদ্রা মজুদের ব্যবহার স্থানীয় অর্থনৈতিক প্রণোদনার পেছনে ব্যয় করার বিষয়টি রয়েছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই অভিযোগ করছে, চীন অন্যায়ভাবে ইউয়ানের দর প্রভাবিত করে থাকে। অসমাপ্ত বাণিজ্য আলোচনার শেষ রাউন্ডে ইউয়ান ও ডলারের দর প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কমানো হবে না, এমন দাবি দুই দেশই করে, যার সমাধানের স্থায়ী অঙ্গীকার শেষ পর্যন্ত কেউ না করলে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ে।
তবে ট্রাম্প এর আগেও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ফেডারেল রিজার্ভের প্রতি সুদের হার কমিয়ে ডলারের বিনিময়মূল্য কমানোর আহ্বান জানান। কিন্তু তা অগ্রাহ্য করে সুদের হার স্থির রাখে ফেড। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি ট্রাম্পের ক্ষোভ স্পষ্ট। চীনের মুদ্রানীতিতে শি জিনপিংয়ের নিজস্ব প্রভাব রয়েছে, এমন ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প যেন ফেডের প্রতি নিজের ক্ষোভই প্রকাশ করলেন।
সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে চীনের ইউয়ানের বিনিময়মূল্য ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম পর্যায়ে পৌঁছায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথহার ও বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রাটি দর হারিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে শাস্তিমূলক শুল্ক ধার্য থাকার পরও চীনা পণ্য অনেকটা সস্তা হচ্ছে, যা তাদের রফতানি বাড়াতে সহযোগিতা করছে।
সোমবার ট্রাম্প এ বিষয়ে বলেন, আমাদের একটি ভারসাম্যমূলক মুদ্রানীতি থাকা দরকার ছিল, কিন্তু আমাদের ফেড ‘খুবই খুবই হতাশ’ করেছে। তবে এর পরও আমরাই বাণিজ্যযুদ্ধে জিতছি, কারণ বাণিজ্যশুল্ক যুক্তরাষ্ট্রকে একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। ফেডারেল রিজার্ভের মাথায় রাখা উচিত চীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজনই অঘোষিত প্রধান রয়েছেন। আর সেটা হলেন স্বয়ং শি জিনপিং।

সর্বশেষ..



/* ]]> */