ডিএসইতে চীনের বিনিয়োগে কর ছাড়

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবশেষে চীনা কনসোর্টিয়াম থেকে প্রাপ্ত অর্থে কর সুবিধা পেলেন ব্রোকারেজ হাউজ মালিকরা। তবে এ সুবিধা দিতে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কেবল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্তে, এ অর্থের ওপর ১০ শতাংশ কর ছাড় দেওয়া হবে। এছাড়া বিনিয়োগকৃত অর্থ তিন বছর পুঁজিবাজারে রাখতে হবে। এমন ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) রজতজয়ন্তীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন ঘোষণা দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনা কনসোর্টিয়াম থেকে ডিএসইর সদস্য ব্রোকাররা যে অর্থ পাবেন তা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলে ছাড় দেওয়া হবে। তারা আমাদের কাছে এ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিলে আমরা ব্যাপক হারে কর হ্রাস করে দেব। এটা আমরা পাঁচ শতাংশ করে দেব। এটি আজ (গতকাল) থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, এ অর্থ আগামী তিন বছরের জন্য পুঁজিবাজারে রাখতে হবে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের সিকিউরিটিজ মার্কেটকে আরও শক্তিশালী করা। আরও সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া।
তিনি বলে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বয়স ২৫ বছর হলো। এর মধ্যে আমরা পুঁজিবাজারে দুটি বিপর্যয় দেখেছি। যে ধস আমরা ভালোভাবেই বুঝেছি। তবে ২০১৮ সালে আমরা তৃপ্তিবোধ করতেই পারি। কারণ এখন আমাদের সিকিউরিটিজ মার্কেটটি সত্যিকার অর্থেই সুপ্রতিষ্ঠিত। কেউ থামাতে পারবে না আমাদের এ অগ্রযাত্রা। ক্রমেই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চীনা কনসোর্টিয়ামের অর্থ হাতে পেয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। চীনা কনসোর্টিয়াম থেকে প্রায় ৯৬২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ সরকারকে ১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ৯৪৭ কোটি টাকা পেয়েছেন হাউজ মালিকরা। কিন্তু এ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার জন্য কর সুবিধা পুরোপুরি মাফ চেয়েছিলেন তারা।
এর আগে গত ৩ মে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনের দুই পুঁজিবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পরে ১৪ মে তাদের সঙ্গে ডিএসই কর্তৃপক্ষের চুক্তি হয়। চীনা কনসোর্টিয়াম এই অর্থ পাচ্ছেন ডিএসইর ২৫০ জন শেয়ারহোল্ডার।