ডিএসইতে দুই মাসে বাজার মূলধন কমেছে ২৮ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিন যতই যাচ্ছে পুঁজিবাজারে ততই মন্দাভাব বিরাজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় কমছে লেনদেন, কমছে বাজার মূলধন। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান বাজার এক মুমূর্ষু সময় পার করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ থেকে উত্তরণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সঠিক পদক্ষেপ না নিলে বাজার দীর্ঘমেয়াদি মন্দায় পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

তথ্যমতে, গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৯৯ হাজার ৯০২ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের সর্বনিম্ন বাজার মূলধন। এর আগে ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা। এর পর থেকে অধিকাংশ সময় বাজার মূলধন বাড়লেও এতটা কমতে দেখা যায়নি। চলতি বছরের গত ৩ জানুয়ারি ডিএসইতে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছিল চার চার লাখ ২৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। ওইদিন তা ছিল চলতি বছরের সর্বোচ্চ বাজার মূলধন। এর দুই মাসের ব্যবধানে ডিএসইতে বাজার মূলধন হারিয়েছে ২৮ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শেয়ার বিজকে বলেন, বাজারে লেনদেন নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। বর্তমানে পুঁজিবাজার এক মুমূর্ষু সময় পার করছে। যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে এ অবস্থা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সময়ে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশের মৌসুম চলছে। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের প্রতি আগ্রহ নেই বিনিয়োগকারীদের। এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের লেনদেনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রতিনিয়ত লেনদেন কমায় বাজার মূলধনেও প্রভাব পড়ছে। যার ফলে বড় ধরনের বাজার মূলধন হারিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।

তারা আরও বলছে, কয়েকটি কারণে বাজারে মন্দা অবস্থা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতিকে সামনে রেখে বাজারে অস্থির অবস্থা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের ঋণ আমানত অনুপাত কমানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত হয়। তাছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীন-ভারতকে নিয়ে টানাটানি। এসব কারণে বাজারে বেশ গুজব ছিলÑএতে বাজারের লেনদেনে নি¤œমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। অপরদিকে ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদহার আগের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে অনেকে পুঁজিবাজারের চেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকের দিকে ঝুঁকছে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীও নিষ্ক্রিয় রয়েছে, যার প্রভাব বাজারের লেনদেনে পড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বাজার মূলধন কমেছে বলে মনে করছেন তারা।

এ সম্পর্কে অধ্যাপক আবু আহমেদ শেয়ার বিজকে বলেন, বর্তমানে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশের মৌসুম চলছে। কিন্তু এখনও ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ ঘোষণা শুরু করেনি। অপরদিকে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার বাড়িয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীরা সেদিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে বাজারে খারাপ অবস্থা চলছে। তাই এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরা ছাড়া কিছু করার নেই।