ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৬.৮৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে মোট লেনদেন কমেছে ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দৈনিক গড় লেনদেনও কমেছে ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আর গত সপ্তাহেও পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। সবগুলোর সূচক নেতিবাচক হওয়ার পাশাপাশি বাজার মূলধন কমেছে দুই দশমিক ৩৬ শতাংশ। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এক দিন সূচকের উত্থান হয়, চার দিন পতন হয়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারদর কমলেও লেনদেন বেড়েছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৩৩ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে পাঁচ হাজার ৩২৬ দশমিক ৩৯ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ৩৬ দশমিক ২০ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে এক হাজার ২৩৩ দশমিক ২২ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস৩০ সূচক ৪৫ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৯০২ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৩টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫২টির, কমেছে ২৮০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৮৫ হাজার ১৫১ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪০২ কোটি ৫৩ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭০ টাকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৬৭ কোটি ৮৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৯ টাকা বা ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৬৭৩ কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৫ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ১২ কোটি ৬৬ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে ৩৩৯ কোটি ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫ টাকা বা ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল চার লাখ সাত হাজার ২৪৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৬ হাজার ৩৮ টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৯৭ হাজার ৬২১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩৯ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে দুই দশমিক ৩৬ শতাংশ, বা ৯ হাজার ৬২৪ কোটি ৫১ লাখ ৪৯ হাজার ১৯৯ টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ইস্টার্ন কেব্লস লিমিটেড। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোয় থাকা স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডর দর চার দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং কে অ্যান্ড লিমিটেডের দর চার দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের দর চার দশমিক ৩২ শতাংশ এবং গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের দর তিন দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ফরচুন শুজ লিমিটেডের তিন দশমিক ৯২ শতাংশ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তিন দশমিক ৮৩ শতাংশ, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের তিন দশমিক ৭০ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের তিন দশমিক আট শতাংশ ও হা ওয়েল টেক্সটাইলস (বিডি) লিমিটেডের দর তিন শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ৬৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের ৬১ দশমিক ২৮ শতাংশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের ২০ দশমিক ৭৫ শতাংশ, আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ১৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল লিমিটেডের ১২ দশমিক ১২ শতাংশ, জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের ১২ দশমিক সাত শতাংশ ও ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের দর ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো: ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড, গ্রামীণফোন, ফরচুন শুজ, মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্ল কোম্পানি, ইসকোয়্যার নিট কম্পোজিট লিমিটেড, ইস্টার্ন কেব্লস লিমিটেড, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ লিমিটেড ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ২৮৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৫টির, কমেছে ২২৮টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২২টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দুই দশমিক ৫৮ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক কমেছে দুই দশমিক ৫৮ শতাংশ, সিএসই৫০ দুই দশমিক ৪১ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক তিন দশমিক শূন্য এক শতাংশ কমেছে। সিএসই৩০ সূচক কমেছে দুই দশমিক ৭৪ শতাংশ।
সিএসইতে গত সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৩ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১৩৫ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ৬০১ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ১৮ কোটি ২৭ লাখ দুই হাজার ৭৪২ টাকা।
১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ইস্টার্ন কেব্লস লিমিটেড। গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের দর ১০ শতাংশ বেড়েছে। ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ ও ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক লিমিটেডের দর ৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এসকোয়্যার নিট কম্পোজিট লিমিটেড, সমতা লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড, কে অ্যান্ড কিউ লিমিটেড, শমরিতা হসপিটাল লিমিটেড ও ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড।
অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড। এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, আরএন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, এসকোয়ার নিট কম্পোজিট লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড, বেক্সিমকো লিমিটেড, সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বিএসআরএম, ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড ও গ্রামীণফোন লিমিটেড।