ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: উভয় পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে লেনদেন কমেছে। অবশ্য গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ৫ কার্যদিবস। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৪ কার্যদিবসের মধ্যে সবদিনই সূচকের পতন হয়। দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ। পাশাপাশি সবগুলো সূচক ও বাজার মূলধনও কমেছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি সূচক পতনের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর ও লেনদেন।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দুই দশমিক ৩৭ শতাংশ  বা ১৪৩ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ৯০৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ২৯ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ১৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৩৭৫ দশমিক ৫২ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসই ৩০ সূচক দুই দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা ৬০ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে দুই হাজার ১৭০ দশমিক ২৫ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৩৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র  ৫৫টির, কমেছে ২৭৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ছয় কোম্পানির শেয়ার দর। লেনদেন হয়নি একটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৩৭৪ কোটি ৬২ লাখ ৪৯ হাজার ৬২৪ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৫১৫ কোটি ৮২ লাখ ৫৬ হাজার ৯১৮ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

অন্যদিকে সিএসইতে ২৭১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪১টির, কমেছে ২১৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির দর।

গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক হাজার ৪৯৮ কোটি ৪৯ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৮ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ৫৭৯ কোটি ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার কমেছে এক হাজার ৮০ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ১৭ হাজার ৭৮৪ কোটি ৩৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল চার লাখ ৯ হাজার ৫৭১ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৫১ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ৯৭ শতাংশ বা আট হাজার ২১২ কোটি টাকা।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দুই দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক কমেছে দুই দশমিক ৫১ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক দুই দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক কমে দুই দশমিক ২৪ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক কমেছে দুই দশমিক ৭৩ শতাংশ।

সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৩১ কোটি ১৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩০ টাকা। লেনদেন কমেছে এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইর টপটেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে এ ক্যাটেগরির এ্যাপেক্স স্পিনিং। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ২৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে ছিল সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, অ্যাম্বি ফার্মা, এপেক্স ফুড, ফাইন ফুডস, ফার্মা এইডস, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, পদ্মা ইসলামি লাইফ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর কমে বঙ্গজের। এরপরের অবস্থানে ছিল সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, আরএকে সিরামকিস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মাইডাস ফাইন্যান্স, মেঘনা পিইটি, এফএএস ফাইন্যান্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং।

ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, স্কয়ার ফার্মা, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, গ্রামীণ ফোন, ফু ওয়াং ফুড, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, ব্রাক ব্যাংক, মন্নু সিরামিক, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

১৫ দশমিক ২১ শতাংশ দর বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে এ্যাপেক্স স্পিনিং। এরপরে রয়েছে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, এ্যাপেক্স ফুড, অ্যাম্বি ফার্মা, ফাইন ফুডস, পদ্মা ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড এক, রংপুর ফাউন্ড্রি, কে অ্যান্ড কিউ, বাংলাদেশ ল্যাম্পস।

অন্যদিকে টপটেন লুজার তালিকায় উঠে আসে বঙ্গজ লিমিটেড, বেক্সিমকো সিনথেটিকস, আরএকে সিরামিকস, মাইডাস ফিন্যান্স, ইমাম বাটন, এফএএস ফিন্যান্স, ঢাকা ডায়িং, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, নাহি এলুমিনিয়াম, ইস্টার্ন ব্যাংক।

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল গ্রামীণফোন লিমিটেড, ইস্টার্ন ক্যাবলস, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, কেয়া কসমেটিকস, বেক্সিমকো, ফু ওয়াং ফুড, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ।