ডিএসইতে মোট লেনদেন বেড়েছে ৭.৪৬ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহজুড়ে সব কয়টি সূচক পতনের পাশাপাশি বাজার মূলধন কমেছে। কমেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর। গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবস লেনদেন হয়। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় চার কর্মদিবস। মোট লেনদেন বেড়েছে সাত দশমিক ৪৬ শতাংশ। দৈনিক গড় লেনদেনও সাত দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সব কয়টি সূচক পতনের পাশাপাশি লেনদেন ও বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমেছে।

সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২৩ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ছয় হাজার ১৭৯ দশমিক ৩২ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১৬ দশমিক শূন্য পাঁচ পয়েন্ট বা এক দশমিক ১৪ শতাংশ কমে এক হাজার ৩৯১ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএসই ৩০ সূচক ৪১ দশমিক ৭১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৮২ শতাংশ কমে দুই হাজার ২৫৩ দশমিক ৫০ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৪০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৮টির, কমেছে ২৪২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮ কোম্পানির শেয়ারের দর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৫৫৭ কোটি ৮৭ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯৩ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৫১৯ কোটি ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ১৯ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা বা সাত দশমিক ৪৬ শতাংশ।

অন্যদিকে সিএসইতে ২৭৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৯৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির দর।

গেল সপ্তাহে ডিএসইর মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৩১ কোটি ৫০ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৩ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল দুই হাজার ৭৬ কোটি ৫৪ লাখ ২৪ হাজার ৭৬ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ১৫৪ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বা সাত দশমিক ৪৬ শতাংশ।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ২৭ হাজার ২৫১ কোটি ১৯ লাখ ৩১ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল চার লাখ ২০ হাজার ৯১৩ কোটি ১৫ লাখ আট হাজার ৭০১ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে এক দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ছয় হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।

দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দুই দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক কমে দুই দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক দুই দশমিক ৩২ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক কমেছে এক দশমিক ১৭ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক কমেছে এক দশমিক ২৮ শতাংশ।

সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩৭ কোটি ৫০ লাখ ১৭ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১২৪ কোটি ২৯ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭১ টাকা।

গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে ‘বি’ ক্যাটেগরির বিডি অটোকার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোয় ছিল আজিজ পাইপস, এসিআই ফরমুলেশন, ন্যাশনাল টিউবস, ওয়াটা কেমিক্যাল, এটলাস বাংলাদেশ, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, হামিদ ফেব্রিকস, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যাল, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান।

অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ দর কমে আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির। এরপরের অবস্থানে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, নর্দার্ন জুট, আমরা নেটওয়ার্কস, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক ও এবি ব্যাংক।

ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ দশ কোম্পানি হলো ইফাদ অটোস, ইউনাইটেড পাওয়ার, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ন্যাশনাল টিউবস, স্কয়ার ফার্মা, ড্রাগন সোয়েটার, লাফার্জ সুরমা, সিটি ব্যাংক, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং, ব্র্যাক ব্যাংক।

সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে জনতা ইন্স্যুরেন্স, আজিজ পাইপস, সমতা লেদার, শাইনপুকুর সিরামিকস, এসিআই ফরমুলেশন, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, বঙ্গজ লিমিটেড, ওয়াটা কেমিক্যাল, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকায় উঠে আসে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, আমরা নেটওয়ার্কস, যমুনা ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু সিরামিক, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।

সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।