কোম্পানি সংবাদ

ডিএসইতে লেনদেনের নেতৃত্বে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এ খাতে লেনদেন হয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মোট লেনদেনের ১৫ শতাংশ। এ খাতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা। লেনদেনে শীর্ষ তিনের মধ্যে অবস্থান করে জেএমআই সিরিঞ্জ, স্কয়ার ফার্মা ও ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস। লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা জেএমআই সিরিঞ্জের গড়ে প্রতিদিন ১২ কোটি ৯০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। এদিকে গত সপ্তাহের শেষ দিনে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ০৩ শতাংশ বা পাঁচ টাকা ৩০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৫০৮ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫০৯ টাকা ৮০ পয়সা। দিনজুড়ে দুই লাখ পাঁচ হাজার ২৫৯টি শেয়ার তিন হাজার ১৭৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১০ কোটি ৪৬ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনিম্ন ৫০৩ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫১৮ টাকায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ৫১৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৭৮ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।
সবশেষ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ছয় টাকা ৮৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৬৭ টাকা ৬৪ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় যথাক্রমে ছয় টাকা ৭৮ পয়সা ও ৬৭ টাকা ৬৪ পয়সা ছিল।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল, যা তার আগের বছরও একই ছিল। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছিল ছয় টাকা ৭৮ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি হয়েছিল ৬৭ টাকা ৬৪ পয়সা। ২০১৭ সালে মোট মুনাফা করে সাত কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির এ কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৬৭ কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির দুই কোটি ২১ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩০ দশমিক ৪২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক তিন দশমিক ১৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫০ দশমিক ২৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ৭৭ দশমিক ৮৭ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ৭৭ দশমিক ৮৭।
ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল স্কয়ার ফার্মা। গড়ে প্রতিদিন কোম্পানিটির ১১ কোটি সাত লাখ টাকা লেনদেন হয়। এদিকে গত সপ্তাহের শেষ দিনে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর দশমিক ৭৯ শতাংশ বা দুই টাকা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২৫১ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৫১ টাকা ১০ পয়সা। দিনজুড়ে দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪৯০টি শেয়ার এক হাজার ১১২ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ছয় কোটি ৯৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৫০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৫৩ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ২৮৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ২৪৪ টাকা ৯০ পয়সায় ওঠানামা করে।
সবশেষ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ৩৬ শতাংশ নগদ ও সাত শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৫ টাকা ৭২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকা ৪১ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় যথাক্রমে ১৫ টাকা ৫১ পয়সা ও ৭১ টাকা ৪৭ পয়সা ছিল।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩৫ শতাংশ নগদ ও সাড়ে সাত শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছিল ১৫ টাকা ৭২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি এনএভি হয়েছিল ৭৮ টাকা ৪১ পয়সা। ২০১৮ সালে মোট মুনাফা করে এক হাজার ১৫৯ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৭৮৯ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ চার হাজার ৮২৯ কোটি ৫৩ লাখ ৯ হাজার টাকা। কোম্পানিটির ৭৮ কোটি ৯০ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৫ দশমিক ৩০ শতাংশ শেয়ার।
লেনদেনে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইন্দোবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস। গড়ে প্রতিদিন কোম্পানিটির সাত কোটি ৯৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়। এদিকে গত সপ্তাহের শেষ দিনে ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ২০ শতাংশ বা ৩০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ২৪ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৪ টাকা ৮০ পয়সা। দিনজুড়ে ১০ লাখ ৫৮ হাজার ২৯৬টি শেয়ার ৫৮৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৬৩ লাখ ১৯ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২১ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে।
কোম্পানিটি ২০১৮ সালে পুঁিজবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আলোচিত সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ৩৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ১৯ পয়সা। ২০১৮ সালে মোট মুনাফা করে ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ১৫০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১০২ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। কোম্পানিটির ১০ কোটি ২৩ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৫১ দশমিক ২৬ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ০৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ..



/* ]]> */