কোম্পানি সংবাদ

ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ

সপ্তাহের ব্যবধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে ইতিবাচক গতিতে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। সবকটি সূচক ও বেশিরভাগ শেয়ারদর বাড়ার পাশাপাশি লেনদেন বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। দৈনিক গড় লেনদেনও একই হারে বেড়েছে। সে সঙ্গে বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারদর। বাজার মূলধন দুই দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বেড়ে চার লাখ কোটির ঘর অতিক্রম করেছে। লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চারদিন সূচকের উত্থান হয়। কমেছে একদিন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৬ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে পাঁচ হাজার ৪৭৪ দশমিক ৩১ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ২৯ দশমিক ৮০ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ২৪৪ দশমিক শূন্য ছয় পয়েন্টে পৌঁছায়। ডিএস ৩০ সূচক ২৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৯১৮ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে স্থির হয়। মোট ৩৫৫টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৬০টির, কমেছে ৭০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩ কোম্পানির শেয়ারদর। লেনদেন হয়নি দুটির। দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৪৯২ কোটি ৬৭ লাখ ৮১ হাজার ২৮৮ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন হয় ৩৬৮ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার ১০৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
গেল সপ্তাহে ডিএসইতে মোট টার্নওভার বা লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৪৬৩ কোটি ৩৯ লাখ ছয় হাজার ৪৪২ টাকা। আগের সপ্তাহে যা ছিল এক হাজার ৮৪১ কোটি ৪৭ লাখ ৫২৬ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টার্নওভার বেড়েছে ৬২১ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ৩৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার বাজার মূলধন ছিল তিন লাখ ৯৪ হাজার ১৬৪ কোটি ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। শেষ কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল তিন লাখ ৮৫ হাজার ৮৬২ কোটি ৭৯ লাখ এক হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে দুই দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বা সাত হাজার ৯৫০ কোটি টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে বি ক্যাটেগরির গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর ৩১ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। তালিকায় এর পরের অবস্থানগুলোতে থাকা পিপলস ইন্সুরেন্সের দর ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্সুরেন্সের দর ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। সাফকো স্পিনিংয়ের দর ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সোনালী আঁশের দর ২০ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ডের দর ১৮ শতাংশ, নর্দান জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দর ১৭ দশমিক ১৯ শতাংশ ও বাংলাদেশ ল্যাম্পসের দর ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে।
অন্যদিকে ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে অবস্থান করে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ডের দর ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের দর ১১ দশমিক ৩০ শতাংশ, ইমাম বাটনের দর ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ, এনসিসি ব্যাংকের দর আট দশমিক ২৩ শতাংশ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের দর ছয় দশমিক ৮৮ শতাংশ, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ছয় দশমিক ৭৬ শতাংশ, খুলনা প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং লিমিটেডের দর ছয় দশমিক ৪১ শতাংশ, এমারাল্ড অয়েলের দর ছয় দশমিক ১৫ শতাংশ, আরমিট সিমেন্টের দর পাঁচ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমেছে।
ডিএসইতে টার্নওভারের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলোÑইউনাইটেড পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বিবিএস কেব্লস, জেএমআই সিরিঞ্জ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন হাউজিং, খুলনা পাওয়ার, এসকে ট্রিমস, ব্র্যাক ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
অন্যদিকে দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৩০১টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৫টির, কমেছে ১০২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির দর।
সিএসইতে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স বেড়েছে দুই দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া সিএএসপিআই সূচক বেড়েছে দুই দশমিক ৩৭ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক বেড়েছে এক দশমিক ৫৩ শতাংশ, সিএসআই সূচক দুই দশমিক ৫৬ শতাংশ ও সিএসই৩০ সূচক এক দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে।
সিএসইতে গেল সপ্তাহে টার্নওভারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২৪ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ১৩১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। লেনদেন বেড়েছে ৯২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
১৪৯ শতাংশ বেড়ে সিএসইতে সাপ্তাহিক টপ টেন গেইনার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস। সাফকো স্পিনিংয়ের দর ২৩ দশমিক ১২ শতাংশ, পিপলস ইন্সুরেন্সের দর ২১ দশমিক শূন্য দুই শতাংশ বেড়েছে। এরপরের অবস্থানগুলোতে ছিল নর্দান জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বিচ হ্যাচারি, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, জনতা ইন্সুরেন্স।
অন্যদিকে টপ টেন লুজার তালিকার শীর্ষে উঠে আসে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড। এরপরের অবস্থানগুলোতে ছিল এনসিসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ইমাম বাটন, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, বিডি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, শাহজালাল ইসলামিক ব্যাংক।
সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো গ্রামীণফোন লিমিটেড, জিপিএইচ ইস্পাত, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, স্কয়ার ফার্মা, ন্যাশনাল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন হাউজিং, উত্তরা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস।

সর্বশেষ..